- ০২ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মুক্তির আগেই নানা বিতর্কে আলোচনার কেন্দ্রে কন্নড় সুপারস্টার যশ অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। ছবিতে নারীদের উপস্থাপন, প্রচারণায় নারী চরিত্রগুলোর উপস্থিতি এবং সম্প্রতি প্রকাশিত ‘তাবাহি’ গান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এমন পরিস্থিতিতে ছবিটির পক্ষে কথা বলেছেন অভিনেত্রী কিয়ারা আদভানি।
কিয়ারার মতে, তারকাখ্যাতি দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে নিয়ে যেতে পারে, তবে একটি সিনেমার সঙ্গে দর্শকের দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক তৈরি হয় গল্পের শক্তি ও নির্মাণের সততার মাধ্যমে।
সম্প্রতি ফেমিনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়ারা জানান, ‘টক্সিক’-এ তার অভিনীত নাদিয়া চরিত্রটি ক্যারিয়ারের অন্যতম পরিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা। পরিচালক গীতু মোহনদাস প্রথম যখন চরিত্রটির বিস্তারিত বর্ণনা দেন, তখনই তিনি চরিত্রটির গভীরতা ও বহুমাত্রিকতায় মুগ্ধ হন।
কিয়ারা বলেন, চরিত্রটির মধ্যে শক্তি ও দুর্বলতা, উন্মাদনা ও নিঃসঙ্গতা, সংবেদনশীলতা ও জটিলতার মতো নানা আবেগ একসঙ্গে রয়েছে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে যেসব অনুভূতি ও মানসিক স্তর পর্দায় তুলে ধরার সুযোগ তিনি খুঁজছিলেন, নাদিয়া চরিত্রে তার অনেকটাই রয়েছে।
তিনি জানান, ক্যারিয়ারের বর্তমান পর্যায়ে এসে এমন জটিল চরিত্রে অভিনয়ের আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন। চরিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ক্যামেরার সামনে অভিনয়ের চেয়ে শুটিং শুরুর আগের দীর্ঘ প্রস্তুতিকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন তিনি।
কিয়ারার ভাষায়, একটি চরিত্রের আবেগ, সম্পর্ক, ভয় ও প্রেরণা বুঝতে তিনি দীর্ঘ সময় ব্যয় করেন। এরপর চরিত্রের শরীরী ভাষা, কণ্ঠস্বর, পোশাক এবং চলাফেরার ধরন নিয়ে কাজ করেন। দর্শক পর্দায় কেবল চূড়ান্ত অভিনয় দেখলেও এর পেছনের প্রস্তুতির দীর্ঘ প্রক্রিয়া সাধারণত তাদের চোখে পড়ে না।
নাদিয়াকে পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে গিয়ে তিনি নতুন করে অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করেছেন বলেও জানান কিয়ারা। তার মতে, প্রতিটি চরিত্রে অভিনেতার ব্যক্তিগত সত্তার কিছু অংশ থাকে, আবার প্রতিটি চরিত্র অভিনেতার জীবনে নতুন কোনো উপলব্ধি বা অভিজ্ঞতাও যোগ করে।
তবে কিয়ারার ইতিবাচক অভিজ্ঞতার বিপরীতে কয়েক মাস ধরে ছবিটি ঘিরে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে প্রকাশিত প্রথম টিজারে কবরস্থানে ধারণ করা কিছু ইঙ্গিতপূর্ণ দৃশ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। পরে চলতি বছরের জানুয়ারিতে কর্ণাটক রাজ্য মহিলা কমিশন এ বিষয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র প্রত্যয়ন বোর্ডের (সিবিএফসি) কাছে চিঠি পাঠায়। কমিশনের অভিযোগ ছিল, ছবির কিছু দৃশ্য নারী ও শিশুদের সামাজিক কল্যাণের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
এরপর গত ১ জুলাই ‘লেডিজ অ্যান্ড লেডিজ’ শিরোনামে সিনেমাটির দ্বিতীয় টিজার প্রকাশ করেন নির্মাতারা। নারী চরিত্রগুলোর সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই ছিল এর উদ্দেশ্য। তবে টিজারটি প্রকাশের পরও বিতর্ক থামেনি। সমালোচকদের একাংশের দাবি, প্রচারণায় এখনো যশকেই মূল কেন্দ্রে রাখা হয়েছে এবং নারী চরিত্রগুলো প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাচ্ছে না।
তবে এ মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন কিয়ারা। তার দাবি, সিনেমাটির প্রতিটি নারী চরিত্রই নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও আলাদা শক্তি নিয়ে নির্মিত হয়েছে।
নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্তের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাকে দারুণ বলে উল্লেখ করে কিয়ারা বলেন, প্রত্যেক অভিনেত্রী পর্দায় স্বতন্ত্র পরিচয় ও নিজস্ব শক্তি নিয়ে হাজির হয়েছেন। একই সিনেমায় এত ভিন্নধর্মী নারী চরিত্র দর্শকদের ভালো লাগবে বলেও আশাবাদী তিনি।
শুটিংয়ের পরিবেশ নিয়েও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন কিয়ারা। তার ভাষায়, অনেক সময় সেটে মনে হয়েছে, পুরো দল মিলে সত্যিই নতুন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করছে। এমন অভিজ্ঞতাই তাকে বারবার সিনেমার প্রতি ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেয়।
হিন্দি ও তেলেগু সিনেমার পর কন্নড় চলচ্চিত্রে কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে কিয়ারা বলেন, বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রে কাজ করার সুযোগ তাকে অভিনয় ও গল্প বলার ধরন সম্পর্কে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত ‘টক্সিক’-এ যশকে দ্বৈত চরিত্রে দেখা যাবে। সিনেমাটিতে আরও অভিনয় করেছেন কিয়ারা আদভানি, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া ও রুক্মিণী বসন্ত।
কেভিএন প্রোডাকশনস ও মনস্টার মাইন্ড ক্রিয়েশনসের প্রযোজনায় নির্মিত সিনেমাটি কন্নড় ও ইংরেজি ভাষায় ধারণ করা হয়েছে। পরে এটি হিন্দি, তামিল, তেলেগু ও মালয়ালম ভাষায়ও মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।