- ০৩ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার সিভিল ডিফেন্স। রোববার (২ আগস্ট) উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় চালানো পৃথক হামলায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকার দক্ষিণে একটি অ্যাপার্টমেন্টে ইসরায়েলি হেলিকপ্টার হামলায় এক নারী ও এক পুরুষ নিহত হন। এছাড়া খান ইউনিসে চালানো হামলায় তিনজন এবং গাজা সিটির পুরোনো শহর এলাকায় আরও একজন নিহত হয়েছেন।
এই হামলার ঘটনা এমন সময়ে ঘটল, যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ গত বছরের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। তবে মাঠপর্যায়ে এখনো সেই পরিকল্পনার কার্যকর কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।
হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করে এবং চুক্তি অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহার শুরু করার পরই তারা নিজেদের অস্ত্র সংরক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে। তবে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামাসের ‘কার্যকর নিরস্ত্রীকরণ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান অবস্থান থেকে সেনা সরাবে না ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নতুন এই উদ্যোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে দেশটির কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করে হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে জড়িত সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার তাকে বলেছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দাহলানের দাবি, চুক্তির সফলতা এখন অনেকটাই নির্ভর করছে ইসরায়েল দৈনিক হামলা পুরোপুরি বন্ধ করে কি না তার ওপর।
এর আগে শনিবার মধ্য গাজায় ইসরায়েলি হামলায় একটি চিকিৎসা সরঞ্জাম গুদাম ধ্বংস হয়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামলার পর সেখানে প্রায় ২০ মিটার প্রশস্ত ও ১০ মিটার গভীর একটি গর্ত তৈরি হয়।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও যুদ্ধবিরতির আলোচনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছে।