Wednesday, July 29, 2026

৩১ জুলাই বাংলাদেশে আসছে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’


ছবিঃ ‘‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’–এর দৃশ্য (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

মার্ভেল–ভক্তদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বড় পর্দায় ফিরছে জনপ্রিয় সুপারহিরো ‘স্পাইডার-ম্যান’। সিরিজের নতুন কিস্তি ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাবে আগামী ৩১ জুলাই। তবে বিশ্বমুক্তির এক দিন আগেই বাংলাদেশের দর্শকেরা সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবেন।

আগামী ৩০ জুলাই দেশের স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়া হবে বলে মাল্টিপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আনুষ্ঠানিক মুক্তির আগেই নতুন এই সিনেমা উপভোগ করতে পারবেন বাংলাদেশের দর্শকেরা।

মার্ভেল সিনেম্যাটিক ইউনিভার্সের (এমসিইউ) ৩৮তম সিনেমা এটি। একই সঙ্গে ‘স্পাইডার-ম্যান’ সিরিজের চতুর্থ কিস্তি হিসেবে নির্মিত হয়েছে ছবিটি। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ডেস্টিন ড্যানিয়েল ক্রেটন। আগের সিনেমাগুলোর মতো এবারও পিটার পার্কার বা স্পাইডার-ম্যানের চরিত্রে দেখা যাবে টম হল্যান্ডকে। তাঁর সঙ্গে এমজে চরিত্রে ফিরছেন জেনডায়া।

ছবিতে জেনডায়ার পাশাপাশি জ্যাকব ব্যাটালন ও হাল্ক চরিত্রের অভিনেতা মার্ক রাফেলোকেও দেখা যাবে। পরিচিত মুখগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন কয়েকজন নতুন অভিনেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’খ্যাত অভিনেত্রী সেডি সিঙ্ক। তবে সিনেমায় তাঁর চরিত্র সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

গল্পে দেখা যাবে, ‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’-এর শেষের ঘটনার পর পিটার পার্কারকে সবাই ভুলে গেছে। ডক্টর স্টিফেন স্ট্রেঞ্জের জাদুর কারণে পৃথিবীর কেউ আর পিটারের পরিচয় বা অতীত সম্পর্কে জানে না। এমন পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ একা হয়ে নিউইয়র্ক শহরকে রক্ষা করার দায়িত্ব চালিয়ে যায় পিটার।

নিজের পরিচয় গোপন রেখে পূর্ণ সময়ের স্পাইডার-ম্যান হিসেবে কাজ করতে গিয়ে তাকে একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও নতুন শত্রুর মুখোমুখি হতে হবে। নতুন এই অধ্যায়ে পিটারকে আগের চেয়ে বেশি স্বাধীন, দায়িত্বশীল এবং মানসিকভাবে পরিণত রূপে দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এবারের সিনেমায় এমজের জীবনেও পরিবর্তন এসেছে। পিটারের স্মৃতি হারিয়ে ফেলার পর এমজে নতুনভাবে জীবন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অভিনেতা ইমান এসফান্দি ছবিতে এমজের নতুন প্রেমিকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন বলে জানা গেছে।

মার্ভেল–ভক্তদের জন্য অন্যতম বড় চমক হতে যাচ্ছে ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রের প্রত্যাবর্তন। জনপ্রিয় ‘ডেয়ারডেভিল’ সিরিজের পর জন বার্নথাল আবারও ফ্র্যাঙ্ক ক্যাসেল বা ‘দ্য পানিশার’ চরিত্রে বড় পর্দায় হাজির হচ্ছেন। তাঁর উপস্থিতি পিটার পার্কারের নতুন লড়াইকে আরও জটিল ও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকেও সিনেমাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি বিশ্বের প্রথম চলচ্চিত্র, যা পুরোপুরি ‘শট ফর স্ক্রিন-এক্স’ উদ্যোগের আওতায় নির্মিত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। স্ক্রিন-এক্স প্রযুক্তিতে সামনের মূল পর্দার পাশাপাশি সিনেমা হলের দুই পাশের দেয়ালেও দৃশ্য দেখানো হয়। এতে দর্শকেরা প্রায় ২৭০ ডিগ্রি বিস্তৃত দৃশ্য উপভোগ করতে পারেন।

মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ট্রেলার প্রকাশের পর দর্শকদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। নির্মাতাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকাশের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ট্রেলারটি ৭১ কোটি ৮৬ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। বিভিন্ন দেশে অগ্রিম টিকিট বিক্রিতেও দর্শকদের ব্যাপক সাড়া মিলছে।

‘স্পাইডার-ম্যান: নো ওয়ে হোম’ মুক্তির চার বছর পর নতুন এই কিস্তিতে পিটার পার্কারের জীবনের ভিন্ন এক অধ্যায় দেখতে পাবেন দর্শকেরা। একা হয়ে যাওয়া পিটারের নতুন পরিচয়, মানসিক লড়াই এবং রহস্যময় শত্রুর বিরুদ্ধে তার সংগ্রাম কতটা দর্শকদের মুগ্ধ করতে পারে, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন