- ২৯ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরাকের বিভিন্ন স্থানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান লক্ষ্য করে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের (পিএমএফ) অন্তত আট সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। হামলায় আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে তারা।
বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) পক্ষ থেকে যৌথ হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দুই পক্ষের দাবি, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের ওপর হামলা এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার সঙ্গে জড়িত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরাকের ভূখণ্ড থেকে উৎক্ষেপণ করা কয়েকটি ড্রোন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল ও রাজধানী রিয়াদের গুরুত্বপূর্ণ পেট্রোলিয়াম স্থাপনা লক্ষ্য করে এগিয়ে আসছিল। সৌদি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেগুলো শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে।
সৌদি কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, রিয়াদ আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে আগ্রহী নয়। তবে দেশের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে তারা প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে, পিএমএফ এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, যৌথ বিমান হামলায় তাদের আট সদস্য নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। সংগঠনটির ভাষ্য, এ হামলা ইরাকের সার্বভৌমত্বের জন্য গুরুতর হুমকি এবং দেশটির স্বীকৃত নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর সরাসরি আঘাত।
পিএমএফ ইরাকের বিভিন্ন ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট। দেশটির প্রচলিত আইনে সংগঠনটি ইরাকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সর্বাধিনায়ক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়। তবে পিএমএফের অন্তর্ভুক্ত কয়েকটি গোষ্ঠীর স্বাধীনভাবে সামরিক তৎপরতা চালানো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ইরাক সরকার, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।
এদিকে, ইরান-সমর্থিত ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটি সৌদি কর্তৃপক্ষের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে গোষ্ঠীটি।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি সম্প্রতি সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় ড্রোন হামলার ঘটনা তদন্তে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। হামলার কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার তাঁর সৌদি আরব সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইরাকের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক হামলা এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়ে উঠতে পারে।