- ২৯ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি অবকাঠামো নিয়ে কাজ করা স্টার্টআপ রানলেয়ার তাদের প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক গোপন তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের অভিযোগে এইচআর সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান রিপলিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
রানলেয়ার নিরাপদ মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল (এমসিপি) গেটওয়ে তৈরি করে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এআই মডেল ও স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্টগুলো নিরাপদভাবে বাইরের বিভিন্ন তথ্যভান্ডার, সফটওয়্যার এবং ডিজিটাল টুলের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
মামলার নথিতে রানলেয়ারের অভিযোগ, সম্ভাব্য গ্রাহক হিসেবে রিপলিং দীর্ঘ সময় ধরে তাদের প্রযুক্তি ও পণ্য মূল্যায়ন করেছে। এ সময় রানলেয়ার তাদের পণ্যের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রযুক্তিগত রোডম্যাপ এবং সফটওয়্যারের সোর্স কোডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রিপলিংয়ের সঙ্গে ভাগ করে।
দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পারস্পরিক গোপনীয়তা চুক্তি বা এনডিএ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষার জন্য একটি পৃথক চুক্তিও করা হয়। ওই চুক্তিতে রানলেয়ারের মেধাস্বত্ব নকল করা কিংবা তার প্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুরূপ বা নতুন কোনো পণ্য তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
রানলেয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, রিপলিংয়ের পণ্য মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর ধরে দুই প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা চলেছে। তবে শেষ পর্যন্ত পণ্যের মূল্য নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় রানলেয়ার পরীক্ষামূলক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।
এর কিছুদিন পর রিপলিংয়ের অভ্যন্তরীণ একটি প্রকল্পের বিষয়ে জানতে পারে রানলেয়ার। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রিপলিংয়ের এক কর্মী বার্তায় রানলেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বারম্যানকে জানান, কোম্পানিটির ভেতরে এমন একটি পণ্য তৈরির কাজ চলছে, যা রানলেয়ারের প্রযুক্তির প্রায় হুবহু অনুকরণ।
এর পরই রিপলিংয়ের নতুন পণ্য তৈরির পেছনে রানলেয়ারের মেধাস্বত্ব ও গোপন প্রযুক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে স্টার্টআপটি। মামলায় বাণিজ্যিক গোপন তথ্য আত্মসাৎ, অন্যায্য প্রতিযোগিতা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলো সরাসরি অস্বীকার করেছে রিপলিং। প্রতিষ্ঠানটি নিশ্চিত করেছে যে, তারা নিজস্ব এমসিপি গেটওয়ে চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে তাদের দাবি, নতুন পণ্যটি সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তি ও তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
রিপলিংয়ের এক মুখপাত্রের ভাষ্য, প্রতিযোগিতা এড়াতে রানলেয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। তাদের তৈরি পণ্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যের সঙ্গে এআই টুল যুক্ত করার ক্ষেত্রে আরও উন্নত সেবা দেবে বলেও দাবি করেছে কোম্পানিটি।
মামলায় রানলেয়ারের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী আইন প্রতিষ্ঠান সুলিভান অ্যান্ড ক্রমওয়েলকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে বড় আইন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব মামলার ফলাফল নির্ধারণ করে না। আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই অভিযোগগুলোর সত্যতা ও দায় নির্ধারিত হবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা এআই অবকাঠামোভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে জটিল সফটওয়্যার বা এআই অবকাঠামো বিক্রির ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম প্রায়ই প্রয়োজন হয়। কিন্তু এ সময় সম্ভাব্য গ্রাহকের সঙ্গে প্রযুক্তিগত তথ্য ও পণ্যের গভীর কাঠামো ভাগ করে নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠান দীর্ঘ সময় ধরে একটি পণ্য পরীক্ষা করার পর সেটি কিনে নেওয়ার পরিবর্তে নিজস্ব প্রকৌশল দল দিয়ে একই ধরনের প্রযুক্তি তৈরি করতে পারে। ফলে স্টার্টআপগুলোর জন্য সম্ভাব্য গ্রাহককে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের মেধাস্বত্ব সুরক্ষিত রাখাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
এমসিপি প্রযুক্তির বাজারও দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে এআই গবেষণা প্রতিষ্ঠান Anthropic উন্মুক্ত উৎসভিত্তিক প্রোটোকল হিসেবে মডেল কনটেক্সট প্রোটোকল চালু করে। বর্তমানে এটি এআই মডেল ও এজেন্টকে নিরাপদভাবে বাইরের তথ্যসূত্র এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার সঙ্গে যুক্ত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত কাঠামো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
এমসিপি গেটওয়ে সাধারণত এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ, তথ্যের নিরাপত্তা, ব্যবহার ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সেবার মধ্যে সংযোগ পরিচালনায় অতিরিক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে। এ কারণে এই খাতে নতুন প্রতিষ্ঠানের আগমন বাড়ছে এবং প্রতিযোগিতাও তীব্র হচ্ছে।
গত বছরের মাঝামাঝি সময় রানলেয়ার তাদের পণ্য চালু করে। এরপর প্রতিষ্ঠানটি খোসলা ভেঞ্চারস ও ফেলিসিসসহ বিভিন্ন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে মোট ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে।
তবে দীর্ঘ সময়ের পণ্য পরীক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার পরও কোনো বড় প্রতিষ্ঠান শেষ পর্যন্ত বাইরের প্রযুক্তি না কিনে নিজস্বভাবে একই ধরনের সমাধান তৈরি করতে পারে। রানলেয়ার ও রিপলিংয়ের মধ্যকার এই বিরোধ সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনেছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি খাতসংশ্লিষ্টরা।