- ২৭ জুলাই, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিষ্ঠান মুনশট এআই (Moonshot AI)-এর নতুন ভাষা মডেল ‘কিমি’ (Kimi) প্রকাশের পর আবারও তীব্র আলোচনায় এসেছে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিতর্ক ছাড়িয়ে বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মূল প্রশ্ন—চীনের উন্মুক্ত (ওপেন-ওয়েট) এআই মডেলের উত্থান কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের জন্য হুমকি, নাকি এটি কেবল বাজার প্রতিযোগিতার স্বাভাবিক অংশ?
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমগুলোর আলোচনায় উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক নীতিনির্ধারকদের কাছে চীনের ওপেন-ওয়েট এআই মডেল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব মডেলের নিরাপত্তা, সম্ভাব্য পক্ষপাত এবং জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুললেও সমালোচকদের দাবি, এর পেছনে বাণিজ্যিক স্বার্থও কাজ করতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, চীনের নতুন কোনো এআই মডেল প্রকাশ পেলেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি অঙ্গনে অতিরিক্ত উদ্বেগ তৈরি হয়। এর আগে ডিপসিক (DeepSeek) মডেল প্রকাশের সময়ও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছিল। তখনও দাবি উঠেছিল, তুলনামূলক কম খরচে তৈরি চীনা মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমানতালে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এআই নিয়ে আলোচনায় "চীন" শব্দটি যুক্ত হলেই বিতর্কের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অনেকেই বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ভূরাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অংশ হিসেবেও দেখছেন।
এদিকে, প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, চীনের ওপেন-ওয়েট মডেলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলে তার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হবে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শীর্ষ এআই প্রতিষ্ঠান। কারণ, সে ক্ষেত্রে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প উন্মুক্ত মডেলের বদলে বাধ্য হয়ে বাণিজ্যিক ও মালিকানাধীন (প্রোপ্রাইটারি) এআই সেবা ব্যবহার করবে।
তাদের প্রশ্ন, এমন পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কি সত্যিই যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখা, নাকি নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বাজার আধিপত্য নিশ্চিত করা?
সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের কৌশলগত ভবিষ্যৎবিষয়ক বিভাগের প্রধান ডিন বল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনা ওপেন-ওয়েট মডেল নিয়ে দীর্ঘ মন্তব্য প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে এমন নীতিগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান, যা এসব মডেলের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। যদিও পরবর্তীতে তিনি নিজের বক্তব্যের কিছু অংশ থেকে সরে আসেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তি যত এগোচ্ছে, ততই এটি শুধু উদ্ভাবনের বিষয় থাকছে না; বরং জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, প্রযুক্তিগত নেতৃত্ব এবং বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই প্রতিযোগিতা আগামী দিনে আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রযুক্তি পর্যবেক্ষকদের একাংশের মত, প্রতিযোগিতাকে নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করার পরিবর্তে উদ্ভাবন, গবেষণা এবং উন্মুক্ত প্রযুক্তি উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই নেতৃত্ব গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারে।