- ২৭ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভারতের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন প্রহ্লাদ যোশি। দেশজুড়ে পরীক্ষা ফাঁস কেলেঙ্কারি এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা অনিয়ম নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের মুখে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে যোশির নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নতুন এই নিয়োগ দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে চলা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিক্ষোভ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
৬৩ বছর বয়সী প্রহ্লাদ যোশি এর আগে ভারতের নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। এখন তার দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা নজরদারি ও আস্থার সংকটের সময়ে এই দায়িত্ব সামলানো যোশির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যোশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই দায়িত্ব তিনি বিনয়ের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন এবং দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে কাজ করার জন্য নিজের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
১৯৬২ সালে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের বিজাপুরে জন্মগ্রহণ করেন প্রহ্লাদ যোশি। তিনি কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কে এস আর্টস কলেজ, হুবলির থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি একটি রাসায়নিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির প্রতি আগ্রহ ছিল তার। পরে তিনি ডানপন্থি হিন্দু সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সঙ্গে যুক্ত হন।
আরএসএসকে বিজেপির আদর্শিক ভিত্তির অন্যতম প্রধান সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৯৯০-এর দশকের শুরুতে কর্ণাটকের হুবলি ইদগাহ ময়দান ইস্যুর মধ্য দিয়ে যোশির রাজনৈতিক পরিচিতি বাড়তে শুরু করে। ওই সময় জমির ব্যবহার নিয়ে হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল এবং বিজেপি ও আরএসএস জাতীয় পতাকা উত্তোলনের দাবি জানিয়েছিল।
২০০৪ সালে তিনি কর্ণাটকের ধারওয়াড় আসন থেকে বিজেপির সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর টানা পাঁচবার লোকসভা নির্বাচনে জয় পান তিনি।
১৯৯৮ সালে প্রহ্লাদ যোশি ধারওয়াড় জেলা বিজেপির সভাপতি হন। পরে ২০১৪ সালে কর্ণাটক রাজ্য বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব পান।
২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় প্রথমবারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান তিনি। তখন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কয়লা ও খনি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পালন করেন।
কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার কারণে ২০২৪ সালে তিনি প্রশংসার পাশাপাশি সমালোচনার মুখেও পড়েন। পরিবেশবাদী সংগঠন ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একাংশের অভিযোগ ছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির মধ্যেও কয়লা উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫ সালে তিনি নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, তার অধীনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০০ গিগাওয়াট পরিচ্ছন্ন জ্বালানি সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।
নতুন শিক্ষামন্ত্রীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হবে ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি তরুণদের আস্থা ফিরিয়ে আনা।
বিশেষ করে দেশটির অন্যতম বড় মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত NEET পরীক্ষায় ভারতসহ দোহা, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও কাঠমান্ডুর কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ২৩ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। মেডিকেল কলেজে আসন ছিল এক লাখ ৩০ হাজারেরও কম।
পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠার পর সরকার ১২ মে পরীক্ষার ফল বাতিল করে নতুন করে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ ছিল, পরীক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও অনিয়মের কারণে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রোববার প্রথম বৈঠক করেন প্রহ্লাদ যোশি। বৈঠকে তিনি বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার্থীদের আস্থা পুনর্গঠন এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলাই হবে ভারতের নতুন শিক্ষামন্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব।