- ২৬ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বাহিনী সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে অবস্থিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ হামলাকে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের অন্যতম বড় উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হুথিদের দাবি, সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর জিজান ও ইয়ানবুর স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। জিজানের একটি তেল শোধনাগারের কাছে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেলেও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি।
অন্যদিকে ইয়ানবুতে তেল স্থাপনার দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সৌদি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশেই প্রতিহত করেছে বলে জানা গেছে। সেখানে মোতায়েন গ্রিক পরিচালিত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা ঠেকাতে সক্ষম হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করে। গত ১১ জুলাই থেকে টানা কয়েক দফা মার্কিন বিমান হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়। এরপর জুনে হওয়া অস্থায়ী শান্তি সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ে এবং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে।
তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে গত দুই রাত ধরে ইরানের ওপর নতুন কোনো মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়নি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং নতুন করে আলোচনায় ফেরার সম্ভাবনাও পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে ইয়েমেনে হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাতও আবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। সানার বিমানবন্দর ঘিরে উত্তেজনা এবং হুথিদের ঘোষিত নৌ অবরোধের পর সৌদি বাহিনী হুদাইদা শহরে বিমান হামলা চালায়। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়াতেই সৌদি তেল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর দাবি করেছে হুথি বাহিনী।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে বাব আল-মানদেব ও হরমুজ—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে, যার প্রভাব খাদ্য ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়বে।
এদিকে সংঘাতের প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইরানের দাবি, কাস্পিয়ান সাগরে তাদের একটি জাহাজে দূরপাল্লার হামলা চালানো হয়েছে, যার জন্য তারা ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। যদিও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দীর্ঘপাল্লার অভিযানে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সফল হামলার কথা উল্লেখ করলেও ইরানের অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাঁর ভাষায়, আলোচনার পথ এখনো খোলা রয়েছে এবং সমঝোতার সুযোগ থাকলে যুক্তরাষ্ট্র তা বিবেচনায় নিতে প্রস্তুত।
সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আপাতত কিছুটা স্থির থাকলেও ইয়েমেন, সৌদি আরব এবং ইরানকে ঘিরে নতুন করে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।