- ২৫ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় মানবিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া আগুন থেকে প্রাণ বাঁচাতে দুই দেশ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ মানুষকে বাড়িঘর, পর্যটনকেন্দ্র ও বসতি এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়েছে। দমকল বাহিনী দিনরাত চেষ্টা চালালেও প্রবল বাতাস ও তাপপ্রবাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আকাশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ঘন ধোঁয়া, আর আগুনের বিস্তার ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। স্থানীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবর্তনশীল বাতাসের কারণে আগুনের দিক বারবার বদলে যাচ্ছে, ফলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদ অঞ্চলে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বন ও ভূমি পুড়ে গেছে। পাশের অ্যাভিলা প্রদেশে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৩ থেকে ১৫ হাজার হেক্টর এলাকা। দুটি বড় দাবানল একত্রিত হয়ে আরও বিস্তৃত অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়েছে, যা পার্শ্ববর্তী কাস্তিয়া ই লেওন অঞ্চলের আরেকটি আগুনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন এবং জরুরি সমন্বয় বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সরকার উদ্ধার, পুনর্বাসন ও আগুন নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও দাবানলের ভয়াবহতা বাড়ছে। বোর্দো শহরের আশপাশের একাধিক উপশহর থেকে হাজারো বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের তীব্রতা কমার কোনো লক্ষণ না থাকায় স্থানীয় প্রশাসন আরও এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিশ্বখ্যাত আঙুরের বাগান এবং আটলান্টিক উপকূলের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত বোর্দো অঞ্চলের অনেক এলাকা এখন ধোঁয়া ও আগুনে আচ্ছন্ন। বিশেষ করে ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুনের হুমকিতে উপদ্বীপের একমাত্র সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় অনেকে নৌপথে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতোমধ্যে সেখানে অন্তত ৫০টি বাড়ি সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে।
ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু জানিয়েছেন, জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে এখন পর্যন্ত এক লাখ ৪১ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এই দাবানল দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
দাবানল মোকাবিলায় ফরাসি সেনাবাহিনীকে মাঠে নামানো হয়েছে। আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য সামরিক পরিবহন বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছেও সহায়তা চেয়েছে ফ্রান্স সরকার। প্যারিস থেকে অতিরিক্ত শতাধিক অগ্নিনির্বাপক সদস্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পাঠানো হয়েছে, যদিও এতে রাজধানীতে জরুরি সেবার ওপর চাপ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে চলমান দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ, খরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এ বছরের দাবানল পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও তীব্র গরমের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনা আগের চেয়ে অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে।
ফ্রান্স ও স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও হাজারো দমকলকর্মী, সেনাসদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবক আগুন নিয়ন্ত্রণে নিরলসভাবে কাজ করছেন। তবে আবহাওয়ার অনুকূল পরিবর্তন না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।