Thursday, September 10, 2026

তিন আইন পাসের প্রতিবাদে এবি পার্টির বিক্ষোভ, পুনর্বিবেচনার দাবি


ছবিঃ বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল সংসদে পাসের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। দলটির অভিযোগ, জনমত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে সরকার এসব আইন পাস করেছে। একই সঙ্গে তারা জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও একের পর এক ভঙ্গ করছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় রাজধানীর বিজয়নগরের বিজয়-৭১ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন।

সমাবেশে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে জনগণের মধ্যে যে প্রত্যাশা তৈরি করেছিল, নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তার প্রতিফলন ঘটেনি। পুরোনো অধ্যাদেশ বাতিল করে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অপেক্ষাকৃত দুর্বল আইন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গুমের অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর মতে, যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ রয়েছে, তাদেরই যদি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তাহলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি বলেন, গুমের অভিযোগ তদন্তে এমন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেখানে কর্মকর্তারা বদলি, পদোন্নতি কিংবা চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের চাপের মধ্যে থাকবেন না। অতীতে গুমের অসংখ্য অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কখনো এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। তাই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন বিল নিয়েও আপত্তি জানান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তিনি বলেন, আইনের কিছু বিধান ভবিষ্যতে সম্পত্তি নিয়ে জটিলতা ও বিরোধের জন্ম দিতে পারে। বিশেষ করে দান করা সম্পত্তি পরবর্তী সময়ে বিক্রি বা অন্যভাবে হস্তান্তরের সুযোগ থাকবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।

তিনি তিনটি আইনই পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের দাবি জানান।

সমাবেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, যারা একসময় নির্যাতিত ও নিপীড়িত মানুষের অধিকারের কথা বলতেন, তারা এখন জনগণের ভোটে সংসদে গিয়ে অতীতের সেই অভিজ্ঞতা ভুলে গেছেন। তিনি জিয়া পরিবারের ওপর নির্যাতন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মামলাসহ অতীতে গুম, গুলি ও ক্রসফায়ারের ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনকে নতুন করে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ফুয়াদ। তিনি বলেন, পুরোনো আইন ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার আইনকেই পুনর্বহাল করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগের আইন ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন হলে আওয়ামী লীগকেও ফিরিয়ে আনা উচিত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সংসদ ৩১ দফার সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে। ভবিষ্যতে এসব সিদ্ধান্তের জন্য রাজনৈতিকভাবে জবাবদিহির মুখে পড়তে হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সমাবেশে এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আমিনুল ইসলাম, আলতাফ হোসেন ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বক্তব্য দেন। এ ছাড়া দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন