Tuesday, October 27, 2026

তিন দিনের বিরতির পর কিয়েভে ফের রুশ হামলা, নিহত ২


ছবিঃ কিয়েভে রাশিয়ার হামলার স্থানটি দেখছেন মানুষ (সংগৃহীত । আল জাজিরা /রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দূতের মস্কো ও কিয়েভ সফরের পরও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এর মধ্যেই তিন দিনের হামলা-বিরতির সময় শেষ হওয়ার পর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ফের বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত দুজন নিহত ও আরও ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া হামলায় ১৪২টি ড্রোন, ৩২টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৩১টি এবং দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা। তবে হামলায় মোট কতটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল, তা জানানো হয়নি।

কিয়েভের মেয়র ক্লিৎসকোর তথ্য অনুযায়ী, রুশ হামলায় রাজধানীর দারনিতস্কি, হলোসিভস্কি, পোদিলস্কি, শেভচেনকিভস্কি ও সোলোমিয়ানস্কি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা জানিয়েছে, কিয়েভের বিভিন্ন ভবনের পাশাপাশি শহরের আশপাশের বোরিসপিল ও ফাস্তিভ জেলাতেও ড্রোন আঘাত হেনেছে।

রুশ হামলার তীব্র সমালোচনা করেছে ইউক্রেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের শান্তি দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার রাশিয়া ও ইউক্রেন সফর শেষ করার পরপরই রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সিবিহা বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে রাশিয়ার বক্তব্যের চেয়ে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই যেন বেশি জোরালো বার্তা দিচ্ছে।

এর আগে তিন দিনের জন্য রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দূতেরা যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা নিয়ে দুই দেশের সঙ্গে আলোচনায় যাওয়ার সময় এই সাময়িক বিরতি কার্যকর হয়।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, পুতিনের নির্দেশে রুশ বাহিনীর জন্য দেওয়া তিন দিনের হামলা স্থগিতাদেশ সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয় সময় অনুযায়ী শেষ হয়েছে।

ইউক্রেনের হামলা থেকেও রেহাই পায়নি রাশিয়া। সারাতভ অঞ্চলের গভর্নর রোমান বুসারগিন জানিয়েছেন, প্রায় এক হাজার কিলোমিটার দূরের সারাতভে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া ব্রিয়ানস্ক অঞ্চলের সীমান্তবর্তী শহর স্টারোদুবে পৃথক ইউক্রেনীয় হামলায় অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত গভর্নর ইয়েগোর কোভালচুক।

অন্যদিকে, মস্কোর নিয়োগ করা ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক গভর্নর সের্গেই আকসিওনভ দাবি করেছেন, ইউক্রেনের আরেকটি হামলায় উপদ্বীপটিতে অন্তত দুজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্পের দূত উইটকফ ও কুশনার মস্কো ও কিয়েভে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

৫ সেপ্টেম্বর মস্কোয় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিন ঘণ্টার বেশি সময় বৈঠক করেন তারা। ক্রেমলিনের সহযোগী ইউরি উশাকভ বৈঠকটিকে অত্যন্ত কার্যকর বলে বর্ণনা করেছেন।

পরদিন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গেও বৈঠক করেন মার্কিন দূতেরা। আলোচনার পর উইটকফ এটিকে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়ে তারা আশাবাদী।

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের অবসানে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান আসেনি। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ঘোষণা করা হতে পারে।

তবে নতুন করে কিয়েভসহ বিভিন্ন এলাকায় হামলা শুরু হওয়ায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন