Tuesday, September 8, 2026

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোয় ‘ভালো কিছু সম্ভব’ মনে করেছে সরকার: জাহেদ উর রহমান


ফাইল ছবিঃ তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

সরকারি চাকরির নতুন খসড়া বিধিমালায় মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে নিয়োগপ্রক্রিয়ার মানোন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের কাছে নতুন এই মূল্যায়ন পদ্ধতি তুলনামূলকভাবে ভালো মনে হয়েছে বলেই তা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভাইভায় বেশি নম্বর রাখলে প্রার্থীর পছন্দ-অপছন্দ বা পক্ষপাতের সুযোগ বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কার কথা স্বীকার করে জাহেদ উর রহমান বলেন, মৌখিক পরীক্ষা স্বভাবতই একটি বিষয়ভিত্তিক বা ব্যক্তিনির্ভর মূল্যায়ন পদ্ধতি। ফলে এখানে কাউকে বিশেষভাবে সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। তবে এ কারণে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনিয়ম হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, সরকার মনে করেছে নতুন এই মূল্যায়ন কাঠামোর মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, প্রচলিত আইন ও বিধির আওতার মধ্যেই সরকার এই পরিবর্তন আনছে এবং এতে আইনগত কোনো অন্যায় করা হয়নি।

সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারী নিয়োগে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পাশাপাশি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়োজনীয় নম্বর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ পরিবর্তন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ভাইভাকে কেন শুধু অনিয়মের সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখা হবে।

নিজের শিক্ষাজীবনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, মেডিকেল শিক্ষায় লিখিত পরীক্ষার তুলনায় ভাইভার গুরুত্ব অনেক বেশি ছিল। ফলে মৌখিক পরীক্ষা থাকাটাই যে সমস্যার কারণ, এমনটা মনে করেন না তিনি।

জাহেদ উর রহমানের ভাষ্য, চাকরির ক্ষেত্রে শুধু লিখিত পরীক্ষায় অর্জিত জ্ঞানই একজন প্রার্থীর যোগ্যতার পুরো চিত্র তুলে ধরে না। কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা, আচরণ, যোগাযোগ দক্ষতা ও অন্যান্য যোগ্যতাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয় মূল্যায়নে ভাইভা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

নিজের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি বেশ কয়েকটি ভাইভা বোর্ডে ছিলেন। সেখানে এমন কিছু প্রার্থীকে পেয়েছেন, যাদের লিখিত পরীক্ষার ফল হয়তো প্রত্যাশার তুলনায় খুব ভালো ছিল না। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষায় তাদের এমন কিছু যোগ্যতা তাঁর চোখে পড়েছে, যা বিবেচনায় নিয়ে তাদের চাকরির জন্য উপযুক্ত মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের শুধু পরীক্ষার ফল দিয়ে মূল্যায়ন করলে হবে না। একজন প্রশাসকের দায়িত্ব পালনের জন্য বইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি আরও কিছু দক্ষতা ও মানসিক সক্ষমতার প্রয়োজন হয়। তাঁর মতে, এসব বিষয় লিখিত পরীক্ষার চেয়ে ভাইভায় তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে যাচাই করা সম্ভব।

ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, সরকার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়ার জন্য এ পরিবর্তন করছে—এমন অভিযোগ থাকলে সাংবাদিকরা সরাসরি সেই প্রশ্ন তুলতে পারেন।

একই সঙ্গে নিয়োগের পর কোনো নির্দিষ্ট অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা অনুসন্ধান করে সামনে আনার জন্য সংবাদমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জাহেদ উর রহমান বলেন, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাস্তবে কোনো অনিয়ম হলে তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের অবশ্যই প্রশ্ন তোলা উচিত। নির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে সেগুলো প্রকাশ্যে আনার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও গণমাধ্যম ভূমিকা রাখতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন