- ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাজশাহী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহীদ শামসুজ্জোহা হলের একটি আবাসিক কক্ষে মশারির ওপর থেকে বিষধর কালাচ সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে হলের ১২১ নম্বর কক্ষে সাপটির উপস্থিতি টের পান এক শিক্ষার্থী। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী দল ‘সোয়ান’-কে খবর দেওয়া হলে তারা এসে সাপটি উদ্ধার করে।
জানা গেছে, রাত আড়াইটার দিকে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী রাব্বি রেজা ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর একটি সাপ দেখতে পান। বিষয়টি তিনি সঙ্গে সঙ্গে তার রুমমেটদের জানান। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ উদ্ধারকারী সংস্থা ‘সোয়ান’-এর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা হলে গিয়ে সাপটি ধরে নিয়ে যান। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাপটিকে বিষধর কালাচ বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পর ওই কক্ষের শিক্ষার্থীসহ হলের অন্য আবাসিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এর আগেও হলের আশপাশে একাধিকবার সাপের দেখা মিলেছে। ফলে রাতে কক্ষে থাকা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিল আহমেদ বলেন, রাতে ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর বিষধর সাপ দেখতে পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত আতঙ্কের। পরে খবর দেওয়ার পর ‘সোয়ান’-এর সদস্যরা এসে সাপটি উদ্ধার করে নিয়ে যান।
তিনি হলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হলের চারপাশ দীর্ঘদিন ধরে অপরিষ্কার ও জঙ্গলাকীর্ণ হয়ে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হল প্রশাসনকে একাধিকবার জানানো হলেও প্রত্যাশিত সমাধান হয়নি বলে তার অভিযোগ। তার ভাষ্য, কয়েক দিন পরপরই আশপাশে সাপ দেখা যায় এবং শিক্ষার্থীদের সবসময় সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তার প্রশ্ন, রাতে সাপের কামড়ে কোনো শিক্ষার্থী গুরুতর আহত বা প্রাণ হারালে এর দায়ভার কে নেবে?
এ বিষয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, একজন শিক্ষার্থী ঘুম থেকে উঠে মশারির ওপর সাপ দেখতে পান। পরে বিষয়টি রুমমেটদের জানানো হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসকিউ টিমকে খবর দেওয়া হয়। দলটি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করে।
তিনি জানান, সাপের উপদ্রব কমাতে এর আগে হলের আশপাশে কার্বোলিক অ্যাসিড ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি হলের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি প্রশাসনের উদ্যোগে হলের পেছনের অংশও পরিষ্কার করা হয়েছে।
প্রাধ্যক্ষের ধারণা, হলের পেছনের দিক দিয়ে সাপটি ভবনের ভেতরে ঢুকে থাকতে পারে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে হলের পেছনের অংশে উন্নতমানের নেট লাগানোর পাশাপাশি ড্রেনগুলো পুনরায় পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব ব্যবস্থা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।