- ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
সুদানের দক্ষিণ কোরদোফান প্রদেশের দিলিং শহরে আবাসিক এলাকায় বিদ্রোহীদের গোলাবর্ষণে শিশুসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির চিকিৎসকদের একটি সংগঠন।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক অভিযোগ করে, সুদান পিপলস লিবারেশন মুভমেন্ট-নর্থের (এসপিএলএম-এন) যোদ্ধারা দিলিংয়ের বেসামরিক বসতিপূর্ণ এলাকায় ভারী গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। এতে ঘরবাড়ি ও সাধারণ মানুষের বসতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি হতাহতের ঘটনা ঘটে।
সংগঠনটির দাবি, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরদোফানের পরিস্থিতি এতে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে এসপিএলএম-এনের আল-হিলু গোষ্ঠীর নেতৃত্বের ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োগ করে বেসামরিক মানুষ ও আবাসিক এলাকায় হামলা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এসপিএলএম-এন মূলত সুদানের সাবেক এসপিএলএমের একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী অংশ। প্রতিবেশী দক্ষিণ সুদানে দলটি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। সংগঠনটির নেতা আবদেল আজিজ আল-হিলু বর্তমানে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সঙ্গে জোটবদ্ধ। তিনি আরএসএফ-নেতৃত্বাধীন বিকল্প সরকার কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন।
দিলিংয়ে হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে দেওয়া আরেক বিবৃতিতে সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানায়, বৃহস্পতিবার কাওদা শহরের কাছে ডেবি ও লুওয়েরি এলাকায় এসপিএলএম-এনের হামলায় ২১ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।
সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল নুবা পর্বতমালা অঞ্চলের সংখ্যালঘু ওটোরো জনগোষ্ঠী। জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে বছরের শুরুতে ওই এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। সেই বিরোধের সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলা যুক্ত হয়ে সুদানের চলমান গৃহযুদ্ধে নতুন করে জাতিগত উত্তেজনা তৈরি করছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত মাসে আরএসএফের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির একটি উদ্যোগ সামনে আনা হলেও আল-হিলু ওই সমঝোতায় যোগ দেননি। এর পর ২০ থেকে ২৬ আগস্টের মধ্যে তাঁর বাহিনী অন্তত ১০টি ওটোরো গ্রামে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সহিংসতায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন।
সুদানে নতুন করে সহিংসতা বাড়ার মধ্যেই জাতিসংঘ-সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত মিশনও সংঘাত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশি যোদ্ধা, অস্ত্র ও অন্যান্য সামরিক সরবরাহের নেটওয়ার্ক এবং সামরিক ড্রোনের ব্যবহার দেশটির সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে। এর ফলে দেশজুড়ে বেসামরিক মানুষের ওপর সহিংসতার মাত্রাও বাড়ছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ চলছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ইতোমধ্যে কয়েক দশক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে খাদ্যসংকট এতটাই তীব্র হয়েছে যে কোথাও কোথাও দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) হিসাব অনুযায়ী, সুদানে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। নতুন করে দক্ষিণ কোরদোফানে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বেসামরিক মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।