Friday, September 4, 2026

অর্থ কেলেঙ্কারির নতুন অভিযোগে রিফর্ম ইউকের দুই শীর্ষ কর্মকর্তার পদত্যাগ


ছবিঃ দলের সাম্প্রতিক তহবিল-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারির জেরে দুই কর্মকর্তা পদত্যাগ করার পর, 'রিফর্ম ইউকে'-র নেতা নাইজেল ফারাজ দলের অনুদান নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /টবি শেফার্ড/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN

যুক্তরাজ্যের ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে-তে অর্থায়ন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। দলটির দুই কর্মকর্তা জেমস অর ও ড্যান জুকস শুক্রবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একটি অনুসন্ধানী টেলিভিশন প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই তাদের এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে।

চ্যানেল ফোর নিউজের ওই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বিদেশি একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দলের নির্বাচনী প্রচারের ব্যয় বহনের ব্যবস্থা করে রাজনৈতিক অনুদানসংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছিলেন রিফর্ম ইউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে ড্যান জুকসকে গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা কথোপকথনে বিদেশ থেকে দলটিতে অর্থ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচনী আইন কীভাবে এড়িয়ে যাওয়া যেতে পারে, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে দেখা যায়। অন্যদিকে দলটির নীতিবিষয়ক প্রধান জেমস অরের সঙ্গেও ওই প্রতিবেদনের ছদ্মবেশী সাংবাদিকের যোগাযোগের বিষয়টি উঠে এসেছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রিফর্ম ইউকে নতুন অভিযোগ তদন্তে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির নেতা নাইজেল ফারাজ অবশ্য দাবি করেছেন, রিফর্ম ইউকে কোনো আইন ভঙ্গ করেনি। তবে গোপনে ধারণ করা কথোপকথনগুলো দলের ভাবমূর্তির জন্য ভালো হয়নি বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

ফারাজ বলেন, দলের কয়েকজন ঠিকাদার এমন কিছু কথা বলেছেন, যা বলা উচিত ছিল না। একই সঙ্গে তিনি রাজনৈতিক অর্থায়ন নিয়ে অন্য দলগুলোর বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ তোলেন।

এদিকে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলকে দেওয়া অনুদান এবং ভোটসংক্রান্ত ব্যয়ের ক্ষেত্রে ২০০০ সালের Political Parties, Elections and Referendums Act লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ তাদের নজরে এসেছে।

নতুন অভিযোগের পর ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি এবং বিরোধী লিবারেল ডেমোক্র্যাটস রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছে। শুরুতে রিফর্ম ইউকে টেলিভিশন অনুসন্ধানের তথ্যকে ‘ভুয়া’ বলে উড়িয়ে দিলেও পরে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের ঘোষণা দেয়।

সাম্প্রতিক কয়েক মাসে অর্থায়ন নিয়ে একাধিক বিতর্কে চাপে রয়েছে রিফর্ম ইউকে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবসায়ী ক্রিস্টোফার হারবর্নের কাছ থেকে নাইজেল ফারাজের ব্যক্তিগতভাবে ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি উপহার পাওয়ার বিষয়টি, যা আগে প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

হারবর্ন রিফর্ম ইউকেকেও ২ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের বেশি অর্থ দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অনুদান নিয়ে পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি সংসদীয় তদন্তও চলছে।

অর্থায়ন বিতর্কের মধ্যেই ফারাজ সম্প্রতি নিজের সংসদীয় আসন থেকে পদত্যাগ করে উপনির্বাচনের পথ তৈরি করেন। তিনি ওই নির্বাচনকে রাজনৈতিক ‘প্রতিষ্ঠান’-এর বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। বড় দলগুলো প্রার্থী না দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত তিনি সহজেই জয় পান। তবে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ‘কাউন্ট বিনফেস’ প্রায় ১০ হাজার ভোট পাওয়ায় রিফর্ম ইউকের বিরুদ্ধে জনসমর্থনের একটি অংশের অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জেমস অর ও ড্যান জুকসের পদত্যাগের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দলের বার্ষিক সম্মেলন সামনে। ফলে নতুন অর্থায়ন কেলেঙ্কারির অভিযোগ দলটির নেতৃত্ব, অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন