- ২৪ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্বাঞ্চলে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী একটি নৌযানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। রোববারের ওই হামলায় নৌযানটির দুই আরোহী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে মার্কিন সামরিক কমান্ড।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (SOUTHCOM) জানায়, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের পরিচিত রুটে চলাচল করা একটি নৌযানকে লক্ষ্য করে হামলাটি চালানো হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নৌযানটি মাদক পাচারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।
সাউদার্ন কমান্ডের প্রকাশ করা একটি স্বল্পমানের সাদা-কালো ভিডিওতে পানির ওপর একটি নৌযান চলাচলের পরপরই বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে দেখা যায়।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, সাউদার্ন কমান্ডের কমান্ডার জেনারেল ফ্রান্সিস এল. ডোনোভানের নির্দেশনায় জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার নৌযানটিতে প্রাণঘাতী হামলা চালায়।
এক বিবৃতিতে ডোনোভান বলেন, পশ্চিম গোলার্ধে মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলোকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের কার্যক্রম ব্যাহত করা, নেতৃত্ব ভেঙে দেওয়া এবং অঞ্চলজুড়ে কার্টেল সন্ত্রাস নির্মূলের লক্ষ্যেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদক পাচারকারীরা যাতে বাধাহীনভাবে কার্যক্রম চালাতে না পারে এবং তাদের পাচার করা মাদক যাতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কাছে পৌঁছাতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান শুরু হয় ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ নামে। গত সেপ্টেম্বরের শুরুতে অভিযান শুরুর পর পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে একের পর এক সন্দেহভাজন নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা নৌযানগুলো মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত—এমন দাবির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসন এখনো সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশ করেনি। এ কারণে মার্কিন সামরিক অভিযানের বৈধতা ও হামলায় নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর একাংশের আশঙ্কা, এসব হামলা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পর্যায়ে পড়তে পারে। তাদের মতে, মাদক পাচারের সন্দেহের ভিত্তিতে কোনো নৌযানে প্রাণঘাতী সামরিক হামলা চালানোর আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল হামলাগুলোতে সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন ও হামলার নিয়মকানুন যথাযথভাবে অনুসরণ করেছে কি না, তা পর্যালোচনার ঘোষণা দেন। তবে ওই পর্যালোচনায় হামলা চালানোর আইনি ক্ষমতা বা বৈধতা খতিয়ে দেখা হবে না বলে জানানো হয়েছে।
ফলে নতুন করে প্রশান্ত মহাসাগরে নৌযানে হামলার ঘটনায় একদিকে মাদকবিরোধী মার্কিন অভিযানের ব্যাপকতা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে প্রাণঘাতী সামরিক পদক্ষেপের আইনগত ভিত্তি নিয়েও বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।