- ২২ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: PNN
বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে টানা তিন দিন আলোচনার পরও দুই দেশের আলোচকরা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় শনিবার থেকে নতুন এই শুল্ক কার্যকর হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইস্টার্ন টাইম) শেষ হওয়ার পরই শুল্ক কার্যকর হয়। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে দেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নতুন শুল্কের জবাব ‘ডলার-ফর-ডলার’ ভিত্তিতে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে তার সরকার।
এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কানাডার অবস্থান অনেকটা শক্তিশালী হয়েছিল। তবে কানাডার নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা অর্জনের মতো অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত হয়নি।
বাণিজ্যযুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় কানাডা সরকার শিগগিরই শ্রমিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও জানান তিনি।
চুক্তি চূড়ান্ত না হওয়ার জন্য কানাডাকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিসন গ্রিয়ার। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্বের যে সুযোগ কানাডার সামনে ছিল, দেশটি তা কাজে লাগাতে পারেনি।
গ্রিয়ারের দাবি, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যেসব শর্তে সমঝোতা হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত কানাডা সেগুলোতে চূড়ান্ত সম্মতি দেয়নি। বরং নতুন কিছু দাবি এবং আগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে কয়েক দিনের আলোচনায় তৈরি হওয়া ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।
নতুন ৫০ শতাংশ শুল্ক কানাডার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির প্রায় ৫ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। এর মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিকস, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি ও দুগ্ধজাত পণ্য।
এর বাইরে কানাডার ইস্পাত, কাঠ ও গাড়ি আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আগে থেকেই বিভিন্ন শুল্ক রয়েছে। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কানাডার রপ্তানিকারকদের ওপর আরও চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্প তার দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। এরপর থেকে কয়েক দফায় শুল্ক বাড়ানো ও কমানোর হুমকি এবং আলোচনা চালিয়ে আসছে দুই দেশ।
নতুন শুল্ক কানাডার রপ্তানিমুখী ব্যবসাগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞরা।
মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ জুলিয়ান কারাগেসিয়ান বলেন, ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার শত শত পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার সক্ষমতা হারাতে পারে।
তবে শুক্রবারও ট্রাম্প বলেছিলেন, কানাডার সঙ্গে শেষ পর্যন্ত একটি বাণিজ্য চুক্তি হতে পারে। কিন্তু নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় আপাতত দুই প্রতিবেশী দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
নতুন শুল্ক কতদিন বহাল থাকবে এবং দুই দেশ আবার আলোচনায় বসবে কি না এখন সেটিই বাণিজ্য মহলের প্রধান প্রশ্ন।