- ৩০ আগস্ট, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদানের আলোচনা পুনরায় শুরুর সরকারি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন আইসল্যান্ডের ভোটাররা। প্রায় সব ভোট গণনা শেষে গণভোটে ‘না’ ভোট পেয়েছে ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ, আর ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরইউভি জানিয়েছে, এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে ইইউতে যোগদানের বিষয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর উদ্যোগ কার্যত থেমে গেল।
সরকারের পক্ষ থেকে ইইউ সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাবকে ‘এখন নয়তো কখনোই নয়’ ধরনের সিদ্ধান্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ প্রস্তাবটির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
গণভোটের আগে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের প্রচারকারীরা যুক্তি দিয়েছিলেন, ইইউতে যোগ দিলে উচ্চ সুদের হার মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইসল্যান্ড সুবিধা পেতে পারে। পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতির কারণে পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইইউর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দেশটির নিরাপত্তা বাড়াতে পারে বলেও তারা দাবি করেন।
অন্যদিকে ‘না’ পক্ষের প্রচারকারীদের প্রধান উদ্বেগ ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব ও মৎস্য খাত। বিশেষ করে আইসল্যান্ডের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতির প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। দেশটির মৎস্যশিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইইউতে যোগদানের বিরোধিতা করেছে বলে জানা গেছে।
আইসল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্তুন ফ্রস্তাদোত্তির ভোটারদের সতর্ক করে বলেছিলেন, ইইউর সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হলে তার বর্তমান মেয়াদে—যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত—সদস্যপদের বিষয়টি আর রাজনৈতিক এজেন্ডায় তোলা হবে না।
তবে গণভোটের ফলাফল আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। এরপরও সরকার ফলাফলকে সম্মান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ‘না’ ভোট জয়ের পর দেশটির ইইউ সদস্যপদের আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।
উত্তর আটলান্টিকের ছোট এই দেশটি বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য না হলেও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইইএ) এবং শেনজেনের অবাধ চলাচল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। ফলে ইইউর সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও চলাচলভিত্তিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
ইইউও আইসল্যান্ডকে সদস্য করার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছিল। দেশটির মৎস্য ও কৃষি খাতের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতার পথ খোঁজার আশ্বাস দিয়েছিলেন ইইউর সম্প্রসারণবিষয়ক কমিশনার মার্তা কোস।
২০০৯ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় আইসল্যান্ড প্রথম ইইউতে যোগদানের আবেদন করে। তবে ইউরোপীয়পন্থী সরকারের পরবর্তী উদ্যোগ স্থায়ী হয়নি। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নবিরোধী সরকার ক্ষমতায় এসে সদস্যপদ নিয়ে আলোচনা বন্ধ করে দেয়।
সাম্প্রতিক গণভোটের ফলাফলে সেই পুরোনো সংশয়ই আবারও স্পষ্ট হলো ইউরোপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেও আইসল্যান্ড আপাতত ইইউর পূর্ণ সদস্য হওয়ার পথে এগোতে চাইছে না।