Tuesday, October 27, 2026

মোদিকে নিয়ে খারাপ মন্তব্যের অভিযোগ, খাড়গের পদত্যাগ দাবিতে ভারতে বিজেপির বিক্ষোভ


ছবিঃ মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মী ও নেতাদের প্রতিবাদ (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সোমবার বিভিন্ন রাজ্যে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে খাড়গের পদত্যাগ দাবি করেছেন দলটির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছে বিজেপি।

বিতর্কের সূত্রপাত রোববার বিহারের পাটনায় একটি অনুষ্ঠানে খাড়গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে এক ব্যক্তির মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘মোদির বাবাও চলে যাবেন’। ওই ব্যক্তি আগে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কোথাও যাবেন না। খাড়গের এই বক্তব্যকে অশালীন ও আপত্তিকর আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।

সোমবার বিহারের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে খাড়গের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। এ সময় কংগ্রেস সভাপতির কুশপুত্তলিকায় আগুন দেওয়া হয়। জম্মুতেও তাঁর পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান দলটির কর্মীরা। এ ছাড়া বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে বড় আকারের বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে খাড়গের ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়। দিল্লি, মুম্বাই, পাটনা, রাঁচি ও কলকাতাসহ বিভিন্ন শহরেও একই ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের কথা জানিয়েছে বিজেপি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং খাড়গের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রয়াত বাবাকে নিয়ে এমন মন্তব্য তাঁকে মর্মাহত করেছে। তাঁর মতে, সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এ ধরনের মন্তব্য কোনো সাধারণ কর্মী নয়, বরং দেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দলের জাতীয় সভাপতি করেছেন।

রাজনাথ সিং আরও অভিযোগ করেন, বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ না করে কংগ্রেস বরং খাড়গের মন্তব্যের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লাগছে বলেও দাবি করেন তিনি।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশিও খাড়গের সমালোচনা করেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তাঁর সঙ্গে রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার প্রভাব দলের অন্য নেতাদের ওপরও পড়ছে। জোশির অভিযোগ, এ ধরনের বক্তব্য ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতেও সোনিয়া গান্ধী একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছেন।

বিজেপির অভিযোগের জবাবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও পাল্টা বক্তব্য এসেছে। কর্ণাটকের মন্ত্রী ও খাড়গের ছেলে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, বিজেপি প্রায়ই ছোট বিষয়কে বড় বিতর্কে পরিণত করে। তাঁর অভিযোগ, অতীতে নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহের বক্তব্যের ক্ষেত্রেও বিজেপি নেতারা একই ধরনের সংযম দেখাননি। তাই রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে কংগ্রেসকে বিজেপির কাছ থেকে শিক্ষা নিতে হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র শরিক রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) সংসদ সদস্য মনোজ ঝাও খাড়গের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, খাড়গের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তবে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্যের প্রতিবাদে বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মনোজ ঝার অভিযোগ, অতীতে বিজেপির নেতারা সোনিয়া গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গেকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করলেও তখন গণমাধ্যম ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে একই মাত্রার প্রতিবাদ দেখা যায়নি।

খাড়গের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি তাঁর পদত্যাগ ও ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে দেশজুড়ে কর্মসূচি চালাচ্ছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের নেতারা অতীতের বক্তব্য সামনে এনে বিজেপির প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

ভারতের রাজনীতিতে ব্যক্তিগত মন্তব্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই প্রধান রাজনৈতিক শিবিরের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়াতে পারে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন