- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘আরনাব’ ভারতের পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় উপকূলীয় এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশা রাজ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বুধবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূলে আঘাত হানতে পারে।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি সোমবার থেকে আরও শক্তিশালী হয়েছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে এটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম বন্দরনগরীর দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় ২৬০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এ সময় এর একটানা বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১১৫ থেকে ১২৫ কিলোমিটার থাকতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে ১ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষের বসবাস। উপকূল অতিক্রমের পর ঝড়টি দেশের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলের দিকে উত্তরমুখী হতে পারে।
রাজ্যটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রখর জৈন বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, সোমবার রাত পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া প্রয়োজন এমন মানুষের সংখ্যা প্রায় চার লাখ। তিনি জানান, উদ্ধার ও স্থানান্তর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ভারতের পূর্বাঞ্চলে রেল চলাচলেও বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছে, অন্তত ১২টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া দক্ষিণ উপকূলের ৫৩টি রুটে মঙ্গলবার ও বুধবার রেল পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিবেশী ওডিশা রাজ্যেও প্রায় ৪৮ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে কর্তৃপক্ষ। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ভারতের পাশাপাশি হিমালয় অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাত ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নেপালের কর্তৃপক্ষ পর্যটকদের উচ্চ পার্বত্য এলাকায় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত হিমালয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি, তুষারঝড় এবং তুষারধসের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। গত আগস্টে নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনার পর নতুন করে এই সতর্কতা জারি করা হলো।
বঙ্গোপসাগর ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টির অন্যতম প্রধান অঞ্চল। এখান থেকে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় প্রায়ই ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে। ‘আরনাব’ উপকূলে পৌঁছানোর আগে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে, তা নির্ভর করছে ঝড়টির গতিপথ, বাতাসের তীব্রতা এবং স্থানীয় আবহাওয়ার পরিবর্তনের ওপর।