- ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN
জর্ডানের কারাক প্রদেশে গির্জায় প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তিন সশস্ত্র সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। সোমবার পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারের আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাঁদের প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে তিন সন্দেহভাজনই আহত হয়েছেন, যাঁদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কারাকের আল-জাদিদা গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন ওই তিন ব্যক্তি। কয়েক দিন ধরে তাঁদের খুঁজছিল নিরাপত্তা বাহিনী।
অভিযানের সময় সন্দেহভাজনরা আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালান। জবাবে বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা গুলি চালিয়ে তাঁদের আহত অবস্থায় আটক করেন। সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে তিন সন্দেহভাজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।
জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তর বিবৃতিতে বলেছে, সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান দেশটিতে নেই। তবে আটক ব্যক্তিরা কোনো নির্দিষ্ট সশস্ত্র সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কি না, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সরকারের যোগাযোগবিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ মোমানি অভিযানে অংশ নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশংসা করেন। তিনি জানান, আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানানোর পর সংঘর্ষে আহত তিন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।
গত শুক্রবার কারাক প্রদেশের হামুদ গ্রামের একটি গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে বন্দুকধারীদের গুলিতে আটজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ৪০ জন। জর্ডানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত আহত ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
কারাক শহরের প্রিন্স আলী সামরিক হাসপাতালের পরিচালক জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।
রাজধানী আম্মান থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কারাক প্রদেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ জনসংখ্যার জর্ডানে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা আনুমানিক তিন লাখ।
হামলার ঘটনায় শোক প্রকাশ করে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলা মোকাবিলায় দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগুলো পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়াও জানিয়েছেন, তরুণদের সহিংসতার পথে ঠেলে দেওয়ার পেছনে কী ধরনের পরিস্থিতি কাজ করছে, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তদন্তে অগ্রগতি এলেও হামলার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি জর্ডানের কর্তৃপক্ষ।