- ২৬ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে এলজিবিটিকিউ (LGBTQ) প্রাইড প্যারেড চলাকালে জনতার ভিড়ে একটি গাড়ি উঠে যাওয়ার ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই নিরাপত্তার স্বার্থে আয়োজনটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে শহরের কেন্দ্রস্থল টিয়ারগার্টেন পার্ক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি সাদা রঙের গাড়ি হঠাৎ করে প্যারেডসংলগ্ন জনতার দিকে ছুটে যায়। কয়েকজনকে চাপা দেওয়ার পর গাড়িটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে থেমে যায়।
ঘটনার পরপরই পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উপস্থিত হাজারো মানুষকে দ্রুত স্থান ত্যাগ করার নির্দেশ দেয়।
বার্লিন পুলিশের এক মুখপাত্র জানান, ঘটনাস্থলে গাড়িটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে গ্রেপ্তারে জোরালো অভিযান চলছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচিত এবং বার্লিনের একটি ইসলামপন্থি চক্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ থাকার তথ্য তদন্তকারীদের কাছে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য বা ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস বলেন, এই ভয়াবহ হামলার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন।
বার্লিনের মেয়র কাই ভেগনারও গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ ও বৈচিত্র্য উদযাপনের একটি অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে চালানো এই হামলা শুধু অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং মুক্ত, সহনশীল ও গণতান্ত্রিক সমাজের ওপরও আঘাত।
শনিবার সকাল থেকেই প্রাইড প্যারেডকে ঘিরে শহরজুড়ে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ এই এলজিবিটিকিউ আয়োজন, যা জার্মানিতে ‘ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে’ নামে পরিচিত, তাতে অংশ নিতে কয়েক লাখ মানুষ বার্লিনে জড়ো হয়েছিলেন।
দিনভর শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং রঙিন উৎসব চললেও রাতের এই ঘটনার পর ব্রান্ডেনবুর্গ গেটের সামনে অনুষ্ঠিতব্য সমাপনী অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। আয়োজক ও পুলিশ সবাইকে নিরাপদে বাসায় ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে জার্মান পুলিশ। হামলার উদ্দেশ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভূমিকা এবং এটি পরিকল্পিত নাশকতা ছিল কি না এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।