- ২৪ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের সৃজনশীল প্রশ্নে ভুল রয়েছে—এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্রে কোনো ধরনের ত্রুটি পাওয়া যায়নি এবং পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও ইতোমধ্যে প্রধান পরীক্ষক ও পরীক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
গত বুধবার অনুষ্ঠিত রসায়ন দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি সৃজনশীল প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বিশেষ করে ১, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর উদ্দীপকের কিছু অংশে ভুল রয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। এ নিয়ে অনেক পরীক্ষার্থীর মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগও তৈরি হয়।
তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, প্রশ্নপত্রে কোনো ভুল নেই। তাঁর ভাষ্য, সৃজনশীল প্রশ্নপত্র এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, অনুধাবন, প্রয়োগ এবং উচ্চতর চিন্তাশক্তি—এই চারটি দক্ষতার মূল্যায়ন সম্ভব হয়। প্রথম তিন ধরনের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হলেও উচ্চতর দক্ষতাভিত্তিক প্রশ্ন বিশ্লেষণধর্মী হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর কাছে তা কঠিন মনে হতে পারে।
তিনি বলেন, উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নের উদ্দেশ্যই হলো শিক্ষার্থীর বিশ্লেষণ ক্ষমতা, যৌক্তিক চিন্তা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাই করা। তাই এ ধরনের প্রশ্ন সব পরীক্ষার্থীর কাছে সহজ হবে—এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়।
বোর্ডের দাবি, প্রশ্নে ভুল রয়েছে—এমন প্রচারণার বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই। বরং কিছু কোচিং সেন্টারের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। কর্মকর্তার মতে, কোচিংয়ে আলোচিত প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষার প্রশ্ন না মেলায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদের স্বার্থে এ ধরনের বিতর্ক উসকে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এবার প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে প্রায় আট লাখই বিজ্ঞান বিভাগের। এত বড় সংখ্যক পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রশ্ন নিয়ে উল্লেখযোগ্য কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তাই প্রশ্নপত্রের মান ও নির্ভুলতা নিয়ে বোর্ড আত্মবিশ্বাসী।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, প্রকাশিত মূল্যায়ন নির্দেশিকা অনুসরণ করেই পরীক্ষকদের উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হবে। প্রশ্নপত্রের প্রতিটি অংশ বিবেচনায় নিয়ে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী নম্বর প্রদান করা হবে।
এদিকে প্রশ্ন নিয়ে চলমান বিতর্কে বিভ্রান্ত না হয়ে শিক্ষা বোর্ডের আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত সব তথ্য যাচাই না করে বিশ্বাস করলে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।