- ২৭ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে (আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর) দীর্ঘ কয়েক মাসের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যেই আইনসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ভোটের আগে সবচেয়ে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত ‘শরণার্থী আসন’, যা ঘিরে সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, জুনের শুরু থেকে চলমান বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রায় ৪০ জন নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ব্যাংক বন্ধ ছিল, বহু এলাকায় মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা স্থগিত রাখা হয় এবং সীমান্তঘেঁষা পুঞ্চ বিভাগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বর্তমান সংকটের নেতৃত্ব দিচ্ছে জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। সংগঠনটি প্রথমে ভর্তুকিমূল্যে আটা, সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ এবং জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুবিধা স্থানীয় জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি তুললেও পরে তাদের দাবির পরিধি বাড়িয়ে ৩৮ দফায় নিয়ে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দাবি হলো আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত শরণার্থী আসন বাতিল করা।
বর্তমান আইন অনুযায়ী, ৪৫ সদস্যের আইনসভার ৩৩টি আসন কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হলেও বাকি ১২টি আসন ভারতের নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানে চলে আসা শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত। এসব আসনের ভোটাররা আজাদ কাশ্মীরে নয়, পাকিস্তানের বিভিন্ন শহরে বসবাস করেন।
জেএএসি নেতাদের দাবি, যাঁরা আজাদ কাশ্মীরে বসবাস করেন না, তাঁদের জন্য সংরক্ষিত আসন স্থানীয় জনগণের প্রতিনিধিত্বের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, কেবল এই অঞ্চলের বাসিন্দারাই এখানকার আইনসভা নির্বাচনে প্রতিনিধি নির্ধারণের অধিকার রাখেন।
অন্যদিকে সরকার ও সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আসনগুলোর ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক ভিত্তি রয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি রায়ে জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনগুলো বিলুপ্ত করতে হলে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন; নির্বাহী সিদ্ধান্ত বা আন্দোলনের চাপের মাধ্যমে তা সম্ভব নয়।
এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন তিন ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মিরপুর বিভাগে ভোট শুরু হয়েছে, মুজাফফরাবাদ বিভাগে ভোট হবে ২ আগস্ট এবং সবচেয়ে উত্তপ্ত পুঞ্চ বিভাগে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০ আগস্ট। এদিকে জেএএসি নেতৃত্ব নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শরণার্থী আসন নিয়ে বিরোধ এখন কেবল নির্বাচনী ইস্যু নয়; এটি আজাদ কাশ্মীরের রাজনৈতিক ক্ষমতা, সাংবিধানিক কাঠামো এবং ইসলামাবাদের প্রভাব নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কে রূপ নিয়েছে। অনেক গবেষকের ভাষ্য, এই সংকট স্থানীয় নির্বাচিত নেতৃত্বের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাও সামনে এনে দিয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচন শেষ হলেও সংরক্ষিত আসন নিয়ে বিরোধের দ্রুত সমাধান না হলে পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।