- ২৭ জুলাই, ২০২৬
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) চলমান আন্দোলনের নতুন মোড় এসেছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের তালা খুলে দিলেও তিন দফা দাবি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক না হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।
গত ২২ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ ছাত্রী হলে নারী ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে এক ক্যান্টিন কর্মীকে শিক্ষার্থীরা আটক করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলাসহ তিন দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের কয়েকটি টার্ম ফাইনাল পরীক্ষা এখনো অনুষ্ঠিত হয়নি। একই সঙ্গে বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশ বিলম্বিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নাঈমুল ইসলাম বলেন, কয়েকটি পরীক্ষা এখনও বাকি থাকায় তাদের একাডেমিক পরিকল্পনা থমকে গেছে। এতে মানসিক চাপ তৈরি হলেও নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের অবস্থান থেকে সরে আসার প্রশ্নই ওঠে না।
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাইমুল ইসলাম জানান, তাদের টার্ম ফাইনাল অনেক আগেই শেষ হলেও ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম শুরু করা যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তবে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকেই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনায় নিয়ে একাধিক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।
তিনি জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, তদন্ত কমিটি গঠন, সংশ্লিষ্ট ক্যান্টিনের বরাদ্দ বাতিল, ছাত্রী হলে কর্মরত কর্মচারীদের মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞা, ক্যান্টিন পরিচালনায় নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং ভবিষ্যতে ওই দুটি ছাত্রী হলে কোনো পুরুষ কর্মী নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ছাত্রী হলের নিরাপত্তা জোরদারে ওয়াশরুমের ভেন্টিলেটারে অস্বচ্ছ কাচ স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিকর আবাসিক পরিবেশ নিশ্চিত করতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন, কেবল আশ্বাস নয়, সব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন এবং ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন। ফলে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ কবে ফিরবে, তা এখনো অনিশ্চিত।