- ১৮ মার্চ, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ পদক্ষেপকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিলম্বিত করার কৌশল হিসেবে দেখছে এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে।
রাজনৈতিক দল দুটি মনে করছে, নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি না এনে প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। তাদের ভাষ্য, এটি গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী এবং জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব নতুন প্রশাসক নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অধিকাংশই একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে অভিযোগ উঠেছে।
জামায়াতে ইসলামী একাধিক বিবৃতিতে বলেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্বাচনের পথকে দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত দেয়। দলটির নেতারা মনে করেন, প্রশাসনিক কাঠামোকে দলীয়করণ করা হলে সাধারণ জনগণ সঠিকভাবে সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
এনসিপিও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির নেতাদের মতে, নির্বাচনের পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও ভোট আয়োজন না করে আগে প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নির্বাচিত প্রতিনিধির উপস্থিতি নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই প্রশাসক নিয়োগের পরিবর্তে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনই হতে পারে এই বিতর্কের কার্যকর সমাধান।
এদিকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট শিগগিরই এ বিষয়ে করণীয় নির্ধারণে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের রূপরেখা নির্ধারণ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।