Sunday, May 17, 2026

কঙ্গো–উগান্ডায় ইবোলা প্রাদুর্ভাব: আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার


ছবিঃ ২০২৬ সালের ১৬ই মে উগান্ডার কাম্পালায় কিবুলি মুসলিম হাসপাতালের সামনে একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা থার্মোমিটার ব্যবহার করে লোকজনকে পরীক্ষা করছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । হাজারা নলওয়াদ্দা/এপি ফটো)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (DRC) এবং উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়া ইবোলা ভাইরাস প্রাদুর্ভাবকে “আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা” হিসেবে ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত ৩০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং অন্তত ৮৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

WHO মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো মহামারি পর্যায়ে না পৌঁছালেও প্রতিবেশী দেশগুলোতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, এই প্রাদুর্ভাবটি বিরল “Bundibugyo virus disease (BVD)” দ্বারা ঘটছে, যা ইবোলার একটি কম পরিচিত ধরন। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা কার্যকর চিকিৎসা নেই।

আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (ACDCP) জানিয়েছে, শুরুতেই যে নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে সেখানে সংক্রমণের হার অত্যন্ত বেশি, যা পরিস্থিতির আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোর ইটুরি প্রদেশ থেকে ভাইরাসটির বিস্তার শুরু হয়, যা উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানের সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত। পরবর্তীতে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় দুইজন রোগী শনাক্ত হয়, যাদের মধ্যে একজন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কঙ্গো থেকে সংক্রমিত হয়ে দেশে ফিরেছিলেন।

WHO জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাবের বড় অংশই কঙ্গোতে, যেখানে উগান্ডায় দুইটি নিশ্চিত কেস পাওয়া গেছে। সংস্থাটি বলছে, পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না যায়।

সংস্থাটি আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত আলাদা করে চিকিৎসার নির্দেশ দিয়েছে এবং সীমান্তবর্তী দেশগুলোকে জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করতে বলেছে। একই সঙ্গে প্রধান সড়ক ও সীমান্ত এলাকায় স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে WHO সতর্ক করেছে, সীমান্ত বন্ধ বা বাণিজ্য সীমিত করা উচিত নয়, কারণ এতে মানুষ ও পণ্যের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল বেড়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইবোলা ভাইরাস শরীরের তরল পদার্থের সংস্পর্শে ছড়ায় এবং এতে জ্বর, শরীর ব্যথা, বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না নিলে এটি প্রাণঘাতী আকার ধারণ করতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন