Sunday, May 17, 2026

ট্রাম্প-শি বৈঠকের পরও যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য দ্বন্দ্বে অচলাবস্থা


ছবিঃ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের বেইজিং-এর ঝংনানহাই গার্ডেন পরিদর্শনের সময় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর পাশে কথা বলার সময় অঙ্গভঙ্গি করছেন, ১৫ মে, ২০২৬। (সংগৃহীত । রয়টার্স/ইভান ভুচি/পুল পারচেজ লাইসেন্সিং রাইটস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বেইজিং সফর শেষ হয়েছে সীমিত অগ্রগতির মধ্য দিয়ে। দুই দিনের শীর্ষ বৈঠককে ঘিরে বড় কোনো বাণিজ্যিক অগ্রগতি না এলেও বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের দীর্ঘদিনের প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনাকেই আবারও সামনে এনেছে।

ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ কিছুটা শিথিল হলেও দুই দেশ এখনো পারস্পরিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যেই রয়েছে। আলোচনায় শুল্কনীতি, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সামরিক প্রভাব বিস্তারসহ বিভিন্ন ইস্যু উঠে আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর শুল্কনীতির মাধ্যমে চীনকে বড় ধরনের ছাড় দিতে বাধ্য করার কৌশল প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। বরং চীন পাল্টা শুল্ক আরোপ ও গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল সরবরাহ সীমিত করার হুমকি দিয়ে পাল্টা অবস্থান নেয়, যা দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের স্থিতাবস্থা তৈরি করেছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া মার্কিন ব্যবসায়িক নেতাদের মধ্যে টেসলার প্রধান ইলন মাস্ক ও এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংও উপস্থিত ছিলেন। তবে তাদের প্রত্যাশিত বড় কোনো বাণিজ্যিক সুবিধা বা অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানান, বৈঠকের মাধ্যমে বোয়িং বিমান বিক্রিসহ কিছু কৃষিপণ্য রপ্তানি চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে চীনা দূতাবাস বৈঠককে “খোলামেলা, গঠনমূলক ও কৌশলগত” বলে উল্লেখ করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুল্ক যুদ্ধের সময় যে উচ্চমাত্রার উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা থেকে দুই দেশ এখন কিছুটা স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরে এসেছে। তবে এই স্থিতিশীলতা মূলত একটি অস্থায়ী “ট্রেড ট্রুস” বা বাণিজ্য বিরতির মতো, যা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান নয়।

বৈঠকে এনভিডিয়ার উন্নত এআই চিপ বিক্রির বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, যা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের পক্ষ থেকে তুলনামূলকভাবে কম আক্রমণাত্মক অবস্থান গ্রহণকে বিশ্লেষকরা স্বস্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে দুর্বল অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি এবং দীর্ঘমেয়াদী প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় অবস্থান শক্ত করার কৌশলেই বেইজিং বর্তমানে মনোযোগ দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ককে নতুন করে সহযোগিতার পথে না নিয়ে গিয়ে বরং দীর্ঘমেয়াদী প্রতিযোগিতা ও সীমিত সহযোগিতার বাস্তবতাকেই স্পষ্ট করেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন