- ১৬ মে, ২০২৬
ইসরায়েল ও লেবানন চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়াতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই পক্ষের সরাসরি আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত আসে, যদিও মাঠপর্যায়ে সহিংসতা ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
শুক্রবার (১৬ মে) যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, ১৬ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি এখন আরও দেড় মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে, যাতে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি আনা যায়।
তিনি বলেন, “আলোচনাগুলো অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। রাজনৈতিক আলোচনা আগামী ২ ও ৩ জুন আবার অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি ২৯ মে পেন্টাগনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত পৃথক বৈঠক শুরু হবে, যেখানে দুই দেশের সামরিক প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।”
যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আলোচনার লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা, সার্বভৌমত্বের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ের সংঘাতে হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা হামাসের সামরিক শাখার এক শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে, যাকে তারা ৭ অক্টোবরের হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও অব্যাহত রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ড্রোন হামলা, গাড়ি লক্ষ্য করে আঘাত এবং আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত কূটনৈতিক অগ্রগতি নির্দেশ করলেও, মাঠপর্যায়ের সহিংসতা বন্ধ না হলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার অগ্রগতি থাকলেও ইসরায়েল ও লেবাননের অবস্থান এখনো ভিন্ন। লেবানন পুরোপুরি হামলা বন্ধ ও ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতার নিশ্চয়তা চায়, আর ইসরায়েল হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণকে প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরছে।
এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতায় নতুন করে আলোচনার সূচনা হলেও সীমান্ত পরিস্থিতি অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়ে গেছে।