- ১৫ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, এসব সফরের মাধ্যমে তাদের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি উন্নত করা এবং ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ সম্পর্কে “ভুল ধারণা” দূর করা হবে।
মঙ্গলবার এ সফরসূচির ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন আন্তর্জাতিক পরিসরে ভারতে সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে সমালোচনা বাড়ছে। এর কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল সংস্থা আরএসএসের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা চালানোর অভিযোগ তুলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।
আরএসএসের এক শীর্ষ নেতা সম্প্রতি দিল্লিতে বিদেশি গণমাধ্যমকে জানান, সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশে বৈঠক ও আলোচনা চালিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তাদের লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক মহলে সংগঠন সম্পর্কে “ভুল ধারণা” সংশোধন করা।
সংগঠনটির দাবি, তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো তারা একটি আধাসামরিক ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠন, যা সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে। তবে আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
১৯২৫ সালে কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার প্রতিষ্ঠিত আরএসএস নিজেকে একটি সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। সংগঠনটি হিন্দুত্ববাদী আদর্শ প্রচার করে এবং ভারতের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে।
সমালোচকদের মতে, সংগঠনটির আদর্শ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠতাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে সমর্থন করে। তবে আরএসএস দাবি করে, তারা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্য ও জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষণা প্রতিবেদনে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও ঘৃণামূলক অপরাধ বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে ধর্মীয় ঘৃণামূলক বক্তব্য ও সহিংসতার ঘটনা বেড়েছে। এসব ঘটনার জন্য অনেকে আরএসএস ও ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবকে দায়ী করেন।
আরএসএস জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন থিঙ্কট্যাংক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করছে। একইভাবে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতেও সংগঠনের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এসব সফরের উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের কাছে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা এবং ভুল ধারণা দূর করা।
বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমা দেশগুলোতে আরএসএসের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুধু ভাবমূর্তি উন্নয়নের চেষ্টা নয়, বরং আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলার কৌশলও হতে পারে।
অন্যদিকে সমালোচকদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে আরএসএসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বা চাপ বাড়লে সংগঠনটির বৈশ্বিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক সহায়তা ব্যবস্থায় বড় ধরণের প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে আরএসএস তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।