- ১৫ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করেছেন। তার এই আকস্মিক পদত্যাগে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে দলটির ভেতরে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (স্থানীয় সময়) স্ট্রিটিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানান, তিনি আর প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। তার মতে, দলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী বিপর্যয়ের পেছনে সরকারের জনপ্রিয়তা হ্রাসই প্রধান কারণ।
স্ট্রিটিং বলেন, “এখন স্পষ্ট যে আপনি আগামী সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেবেন না। দল এবং সংসদ সদস্যদের মধ্যে এখন ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে খোলামেলা আলোচনার প্রয়োজন।”
তার পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরও রাজনৈতিক অস্থিরতা দেখা দেয়। লেবার এমপি জশ সাইমন্স ঘোষণা দেন, তিনি সংসদীয় আসন ছেড়ে দেবেন, যাতে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরে এসে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন।
এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে লেবার পার্টির ভেতরে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ শুরু হয়নি, তবে অন্তত কয়েক ডজন এমপি প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগ সরাসরি নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু না করলেও স্টারমারের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি এবং রাইট-উইং রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টির অগ্রগতির পর থেকেই সরকারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে।
এদিকে লেবারের ভেতরে নেতৃত্ব নিয়ে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং অ্যাঞ্জেলা রেইনারের নাম সামনে আসছে। রেইনার সম্প্রতি কর-সংক্রান্ত তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন বলে জানান, যা তাকে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে পারে।
স্টারমার অবশ্য পদত্যাগের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার কার্যালয় জানিয়েছে, তিনি এখনো সরকারের কাজ চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই তার অগ্রাধিকার।
বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরের এই বিভক্তি অব্যাহত থাকলে তা যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়াতে পারে এবং সম্ভাব্য নতুন সাধারণ নির্বাচনের দাবি জোরালো হতে পারে।