- ১৪ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরান যুদ্ধ থামাতে চীনকে মধ্যস্থতায় আনতে চাইছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এই প্রস্তাব তুলতে পারেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত এখনো স্থিতিশীল হয়নি। এক মাস আগে আংশিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শান্তি আলোচনা এগোয়নি, বরং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও বৈশ্বিক জ্বালানির দামে চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীতে প্রভাব কমাতে হবে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিভিন্ন অঞ্চলে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, চীন যেহেতু ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখে এবং দেশটি ইরানি তেলের বড় ক্রেতা, তাই বেইজিংকে সংঘাতে ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক শুধু ইরান ইস্যু নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য ও কৌশলগত প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়াশিংটন সতর্ক করেছে, ইরানকে সহায়তা করলে দুই দেশের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন এখনো বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু ট্যাংকার এই প্রণালী অতিক্রম করেছে, যার মধ্যে ইরাক ও জাপান-সম্পর্কিত তেলবাহী জাহাজও রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই জলপথ আরও কৌশলগত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই এর প্রভাব পড়ছে, বিশেষ করে তেল, সার ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ব্যবস্থায়। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত না থামলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে।