Tuesday, May 12, 2026

যুদ্ধবিরতি শেষ হতেই আবার রাশিয়া-ইউক্রেনের তীব্র বিমান হামলা


ছবিঃ ইউক্রেনের কিয়েভে আটক করা একটি রুশ ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ছাদে পড়ার পর ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছে, ১২ মে, ২০০২৬ (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ম্যাক্সিম মারুসেঙ্কো/ইপিএ)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই রাশিয়া ও ইউক্রেন আবারও একে অপরের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে। মঙ্গলবার ভোর থেকে দুই পক্ষের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাতভর রুশ বাহিনী ২০০টিরও বেশি ড্রোন ব্যবহার করে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং চারজন আহত হয়েছেন। মাইকোলাইভ অঞ্চলে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে কিয়েভ, খারকিভ, ঝাইতোমির, সুমি ও চেরনিহিভ অঞ্চলেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে।

জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় বলেন, রাশিয়া স্বেচ্ছায় ‘নীরবতা ভেঙে দিয়েছে’ এবং যুদ্ধবিরতির সুযোগ কাজে লাগায়নি।

অন্যদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, “মানবিক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায়” রাশিয়ার সামরিক অভিযান আবার শুরু হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি এখনো সামরিক পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ২৭টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব ড্রোন বেলগোরোদ, ভোরোনেজ ও রোস্তভ অঞ্চলে লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে দাবি করা হয়।

এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ৭২ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর, যা রাশিয়ার বিজয় দিবস উপলক্ষে কার্যকর ছিল। ওই সময়টিকে দুই পক্ষই একে অপরকে লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই যুদ্ধ শেষ হওয়ার পথে থাকতে পারে। তবে ক্রেমলিন জানিয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে এখনই কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির ব্যর্থতা এবং নতুন করে হামলার ঘটনা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলেছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন