Monday, May 11, 2026

দুর্নীতি মামলায় সাজা ভোগের পর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা


ছবিঃ থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা ১১ মে, ২০২৬ তারিখে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কেন্দ্রীয় কারাগারে সমর্থকদের অভিবাদন জানাচ্ছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । চালিনি থিরাসুপা/ রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দুর্নীতিসংক্রান্ত একটি মামলায় এক বছরের সাজার অংশ হিসেবে আট মাস কারাভোগের পর থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লং প্রিম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান বলে দেশটির সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাগার থেকে বের হওয়ার সময় শত শত সমর্থক, রাজনৈতিক সহকর্মী এবং পরিবারের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা “আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি” স্লোগান দিতে দিতে তাঁকে স্বাগত জানান।

মুক্তির পর থাকসিন সাদা শার্ট পরা অবস্থায় কারাগার এলাকা থেকে বের হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় তাঁর কন্যা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েথংতার্ন সিনাওয়াত্রা উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য না করে নীরবে স্থান ত্যাগ করেন।

থাকসিন সিনাওয়াত্রা দুই দশকের বেশি সময় ধরে থাই রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। পরে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় এবং তিনি দীর্ঘ সময় স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছিলেন।

২০২৩ সালে দেশে ফিরে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালত প্রথমে আট বছরের কারাদণ্ড দিলেও পরবর্তীতে রাজকীয় ক্ষমায় তা এক বছরে কমিয়ে আনা হয়।

তবে দেশে ফেরার পর তিনি অসুস্থতার কথা বলে প্রথমে হাসপাতালে ছিলেন এবং পরে কারাগারে স্বল্প সময়ের জন্য আটক থাকেন। পরে ভালো আচরণ, বয়স এবং পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি কম বিবেচনায় তাঁকে প্যারোলে মুক্তির সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাকি সাজা সময়কালে থাকসিনকে ইলেকট্রনিক নজরদারি ডিভাইস (অ্যাঙ্কল মনিটর) পরতে হবে।

মুক্তির পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে। তাঁর দল ফিউ থাই পার্টি সাম্প্রতিক নির্বাচনে বড় ধাক্কা খেলেও বর্তমান জোট সরকারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে।

থাকসিনের রাজনৈতিক প্রভাব কমে গেলেও তিনি এখনো থাই রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর মুক্তি দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন