Monday, May 11, 2026

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত: দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালীতে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা


ছবিঃ 10 মে, 2026-এ লেবাননের সিডন জেলার হারেত সাইদায়, সাকসাকিয়েহ-তে ইসরায়েলি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় শোকার্তরা প্রতিক্রিয়া জানায়। (সংগৃহীত । আল জাজিরা । আজিজ তাহের/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে একাধিক শহরে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানা গেছে, একই সঙ্গে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি কিছুটা কার্যকর থাকলেও উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌ-সংঘর্ষ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের ১০টিরও বেশি শহরে বিমান হামলা চালায়। এতে অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও গত মাসে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল, তবুও স্থল ও আকাশপথে সংঘাত পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ওয়াশিংটন এখন তেহরানের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ৭২তম দিনে প্রবেশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের তেলবাহী জাহাজে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও শত্রুপক্ষের জাহাজ লক্ষ্যবস্তু করা হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর ক্ষেত্রেও কঠোর অবস্থান নেওয়ার সতর্কতা দিয়েছে তেহরান।

কূটনৈতিক পর্যায়ে পাকিস্তান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও উত্তেজনা প্রশমনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ৪০টিরও বেশি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। জবাবে হিজবুল্লাহও দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলি সামরিক যান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

লেবাননে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মানবিক সহায়তা প্রধান বলেছেন, যুদ্ধবিরতি থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এখনও কঠিন হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে। অজ্ঞাত একটি প্রজেক্টাইল আঘাতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কাতারের একটি এলএনজি ট্যাংকার ওই প্রণালী অতিক্রম করে পাকিস্তানের দিকে যাত্রা করেছে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতের পর প্রথম এমন রুট ব্যবহার।

যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা জোরদারে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ডেস্ট্রয়ার পাঠাচ্ছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা কয়েকটি জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং ইরানি বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, লেবানন-ইসরায়েল সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ঝুঁকি একসঙ্গে পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে নতুন করে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন