- ১১ মে, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে স্কেল একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের চিন্তা করছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সম্ভাব্য নবম পে স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার একটি পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে পুরো বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন দেশের আর্থিক সক্ষমতা, রাজস্ব আদায় ও মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। এ কারণে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন সম্ভব না-ও হতে পারে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রথম ধাপে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। পরবর্তী অর্থবছরে অবশিষ্ট বেতন সমন্বয় করা হবে। এরপর তৃতীয় ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন পে স্কেলে বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোরও সুপারিশ করা হয়েছে। বৈশাখী ভাতা বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হলেও তা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে। শিক্ষা ভাতাও বাড়িয়ে সন্তানপ্রতি মাসিক ২ হাজার টাকা করার আলোচনা চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক চাপ বিবেচনায় সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এ লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি রাজস্ব আয়, ব্যয় সক্ষমতা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সুপারিশ দেবে। পরে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর বাইরে পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন পড়বে।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পেছনে বছরে প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে। পেনশন খাতে ব্যয় হচ্ছে আরও প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন কাঠামোয় ২০টি গ্রেড রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে।
এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করেছিল সরকার। সে সময় প্রথমে মূল বেতন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়। এবারও একই ধরনের কৌশল অনুসরণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।