- ২১ আগস্ট, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সংঘাত প্রশমিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছে।
বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মূল্য প্রায় ৭২ ডলারে লেনদেন হয়। কয়েক সপ্তাহ আগেও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের বেশি পৌঁছেছিল, যা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর বাজারে আস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশায় তেলের দামে দ্রুত নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
সংঘাত চলাকালে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা চাপে পড়ে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের অপরিশোধিত তেল এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
তবে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো আবারও নিয়মিত চলাচল শুরু করায় সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমান শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও স্থিতিশীল হতে পারে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে যদি একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়, তাহলে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময়ের অস্থিরতার পর জ্বালানি বাজারে এই মূল্যহ্রাস বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এতে পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি শিল্প উৎপাদন, আমদানি ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তারা মনে করছেন।