Friday, June 26, 2026

ভূমিকম্পের ধাক্কায় লণ্ডভণ্ড ভেনিজুয়েলা, মৃত ২৩৫


ছবিঃ ২৫ জুন এল সালভাদরের সান লুইস তালপায় অবস্থিত কোমালাপা বিমান ঘাঁটিতে ভেনেজুয়েলাগামী বিমানে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন সালভাদরের সৈন্যরা। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দুই দফা শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনিজুয়েলা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের সন্ধানে দিনরাত কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। দেশটির উদ্ধার অভিযানে সহায়তা দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবিক সংগঠনগুলো জরুরি সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ দল পাঠানো শুরু করেছে।

সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এ দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩৫ জনে। আহত হয়েছেন অন্তত ৪ হাজার ৩০০ মানুষ। এছাড়া বহু মানুষ এখনো বিধ্বস্ত ভবনের নিচে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বুধবার আঘাত হানা ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি ভূমিকম্পকে গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনিজুয়েলার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর কম্পন প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও অনুভূত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষের কাছে যত দ্রুত সম্ভব সহায়তা পৌঁছে দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সংহতি প্রকাশ করে উদ্ধার কার্যক্রমে বৈশ্বিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরের উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়ারা। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সেখানে শতাধিক ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধসে পড়েছে এবং প্রায় ৭০ হাজার পরিবার এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির কারণে ওই অঞ্চলের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিধ্বস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের খোঁজ করছেন। অনেক পরিবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছে প্রিয়জনদের কোনো খোঁজ পাওয়ার আশায়। একই সময়ে অসংখ্য মানুষ খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও ওষুধ নিয়ে দুর্গত এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন।

ভূমিকম্পে ঘরবাড়ি ও জীবিকা হারানো বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের একজন জানান, এক মুহূর্তেই তিনি বাড়ি ও ব্যবসা—দুটিই হারিয়েছেন। পরিবার নিয়ে এখন খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে হয়েছে এবং দ্রুত মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।

রাজধানী কারাকাসেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। আফটারশকের আশঙ্কায় অনেক বাসিন্দা ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। অনেকে রাত কাটাচ্ছেন খোলা জায়গা কিংবা ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতরে। ভবনগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় নগরজুড়ে অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে ব্রাজিল, কানাডা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, এল সালভাদর, কিউবা এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ উদ্ধারকারী দল ও জরুরি সহায়তা পাঠিয়েছে। পাশাপাশি জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন, ভ্যাটিকান, তুরস্ক, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, চেক প্রজাতন্ত্র, চীন, ভারত এবং আরও কয়েকটি দেশ মানবিক সহায়তা ও বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সংকট, দুর্বল অবকাঠামো এবং সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে ভেনিজুয়েলার জন্য এই দুর্যোগ মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন রক্ষা এবং পুনর্বাসনে আন্তর্জাতিক সহায়তা আগামী দিনগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন