- ২২ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানের পক্ষ থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক নৌচলাচলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। সাম্প্রতিক শিপ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মারিটাইম ইন্টেলিজেন্স সংস্থা উইন্ডওয়ার্ডের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রোববার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র ১২টি জাহাজ পার হয়েছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। একই সময়ে অনেক জাহাজ তাদের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা (AIS) বন্ধ করে অদৃশ্যভাবে চলাচল করেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি প্রণালীটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। উইন্ডওয়ার্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, বর্তমান নৌচলাচল পরিস্থিতি “অস্বাভাবিক ও ঝুঁকিপূর্ণ”, যা কার্যত একটি স্বাভাবিক সমুদ্রপথের চেয়ে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের পরিস্থিতির মতো।
অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) দাবি করেছে, প্রণালী দিয়ে নৌযান চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং নিরাপদ পথ এখনো কার্যকর আছে। তাদের তথ্যমতে, একই দিনে ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ ওই জলপথ ব্যবহার করেছে।
তবে বেসরকারি ট্র্যাকিং সংস্থাগুলোর তথ্য ও সামরিক পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক জাহাজ শনাক্তকরণ এড়াতে তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে থাকতে পারে, যা প্রকৃত চলাচলের সঠিক হিসাব পাওয়া কঠিন করে তুলছে।
হরমুজ প্রণালী সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করে থাকে। ফলে এই রুটে কোনো অস্থিরতা দেখা দিলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে।
সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার পর কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে এলেও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দামেও ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি এই উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং তেলের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে।