Sunday, June 21, 2026

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি ঘিরে নতুন বিরোধে জড়াল পোল্যান্ড ও ইউক্রেন


ছবিঃ ২০২৬ সালের ১৬ই এপ্রিল মিডলবার্গে ডাচ প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকের পর ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনস্কি একটি সংবাদ সম্মেলন করছেন। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /রবিন ভ্যান লনখুইজেন/এএফপি/এএনপি/গেটি ইমেজেস)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় ইউক্রেন ও পোল্যান্ডের সম্পর্কের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। পোল্যান্ডের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সেই পদক ফেরত পাঠিয়েছেন।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি জানান, তিনি মনে করেন এই সম্মাননা মূলত ইউক্রেনের জনগণ ও দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক ছিল। তাই পদকটি পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের কাছে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মূল্যায়ন আরও স্পষ্ট হবে।

বিতর্কের সূত্রপাত হয় ইউক্রেনের একটি বিশেষ সামরিক ইউনিটের নামকরণকে কেন্দ্র করে। জেলেনস্কি সম্প্রতি একটি সামরিক ইউনিটের নাম ইউক্রেনীয় বিদ্রোহী বাহিনী (ইউপিএ)-এর নামে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সক্রিয় থাকা এই সংগঠনটি ইউক্রেনে স্বাধীনতা সংগ্রামের অংশ হিসেবে বিবেচিত হলেও পোল্যান্ডে তাদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার পোলিশ নাগরিক হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট ক্যারল নাভরোৎস্কি বলেন, ইউপিএ পোলিশ জনগণের স্মৃতিতে যুদ্ধকালীন নৃশংসতার সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠন। এ কারণেই তিনি জেলেনস্কির কাছ থেকে দেশটির সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে তৎকালীন পোলিশ প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেজ দুদা ইউক্রেনের নিরাপত্তা, মানবাধিকার রক্ষা এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ জেলেনস্কিকে এই সম্মাননা প্রদান করেছিলেন।

পোল্যান্ড ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কিয়েভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করেছে এবং লাখো ইউক্রেনীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে ঐতিহাসিক স্মৃতি ও যুদ্ধকালীন ঘটনাবলি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যমান।

জেলেনস্কির পদক ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর ইউক্রেনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পোল্যান্ড থেকে পাওয়া নিজেদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননাও ফিরিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও দেশটির ভেতরে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপকে অতিরিক্ত আবেগপ্রসূত বলে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ানো কারও স্বার্থে নয় এবং এ ধরনের বিরোধ রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন দুই দেশের সম্পর্ককে সাময়িকভাবে প্রভাবিত করলেও ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বাস্তবতা পোল্যান্ড ও ইউক্রেনকে সহযোগিতার পথেই থাকতে বাধ্য করবে। তবে ঐতিহাসিক ঘটনাবলির ভিন্ন ব্যাখ্যা ভবিষ্যতেও দুই দেশের সম্পর্কে সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে রয়ে যেতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন