- ২১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের বৈঠক শুরু হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সুইস রিসোর্ট শহর বুয়ের্গেনস্টকে পৌঁছেছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির বাস্তবায়ন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননের পরিস্থিতি, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যু বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব পাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরাও আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দ্রুত অগ্রগতি অর্জনের ওপর জোর দেওয়া হলেও ইরান প্রথমে লেবাননে সংঘাত বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে চায়। ফলে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কমানোই আলোচকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
এরই মধ্যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান। শনিবারও দেশটির বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা ঘটে, যাতে বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করার ঘোষণা দেয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে তেল পরিবহন অব্যাহত আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হলেও এটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে চীন, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপে তেহরানকে সতর্ক থাকতে হবে।
ইরানের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে সংঘাত বন্ধ করা। কিন্তু লেবাননে হামলা অব্যাহত থাকায় চুক্তির বাস্তবায়ন নিয়ে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের জব্দকৃত অর্থ ফেরত, তেল রপ্তানির ওপর বিধিনিষেধ শিথিল এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়গুলোও আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সুইজারল্যান্ডের এই বৈঠকে সব ইস্যুর চূড়ান্ত সমাধান না এলেও পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠন এবং সমঝোতা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার মধ্যে বৈঠকের ফলাফলের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।