- ২১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী আন্দোলনের মুখে বলিভিয়ায় দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। নতুন এই পদক্ষেপের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে স্থাপিত অবরোধ অপসারণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, চলমান অবরোধ ও বিক্ষোভ এখন আর কেবল সামাজিক প্রতিবাদ নয়; বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা নষ্টের একটি সংগঠিত প্রচেষ্টা। তিনি দাবি করেন, জনগণের স্বাভাবিক চলাচল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ৯০ দিনের জন্য এই জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে। তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলে এর আগেই তা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
গত প্রায় ৫০ দিন ধরে চলা বিক্ষোভের কারণে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও যোগাযোগপথ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক রাজধানী লা পাজ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। খাদ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
সরকারের সাম্প্রতিক কৃচ্ছ্রসাধন নীতির বিরুদ্ধে মূলত এই আন্দোলনের সূত্রপাত। জ্বালানি ভর্তুকি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়ে আন্দোলনে নেমেছে শ্রমিক, আদিবাসী ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সংগঠন। তাদের অভিযোগ, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রান্তিক জনগণের চাহিদা ও সংকটগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং কয়েকশ ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, পরিবহন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতেও। অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে অক্সিজেনসহ জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
সংকট নিরসনে সরকার একাধিক শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আন্দোলনের একটি অংশ এখনো প্রেসিডেন্টের পদত্যাগ দাবি করে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জরুরি অবস্থা পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়ক হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার স্থায়ী সমাধান না হলে বলিভিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।