Friday, June 26, 2026

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলা, এক রাতেই ৬৬০টি ভূপাতিত করার দাবি রাশিয়ার


ছবিঃ ইউক্রেনের চালানো ধারাবাহিক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীর পর্যন্ত অবস্থিত জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে মস্কোর কাছে একটি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক আঘাত। (সংগৃহীত । রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এক রাতেই ৬৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে, যা চলমান যুদ্ধে ইউক্রেনের অন্যতম বৃহৎ দূরপাল্লার আকাশ অভিযান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

শুক্রবার প্রকাশিত রুশ সামরিক তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী মস্কোসহ ১৩টি অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপ এবং কৃষ্ণ ও আজভ সাগরসংলগ্ন আকাশসীমায় এসব ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল সামরিক ও কৌশলগত অবকাঠামো।

সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানো হয় মস্কোর দক্ষিণে তুলা অঞ্চলে। স্থানীয় প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে একটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এক নারী আহত হয়েছেন। একই অঞ্চলের নোভোমস্কভস্ক শহরের একটি শিল্পকারখানাও হামলায় ক্ষতির মুখে পড়ে।

রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি রাসায়নিক উৎপাদনকারী 'আজট' কারখানা, যা বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে ধারণা করা হয়। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে অতীতেও এই ধরনের স্থাপনাকে রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। এসব হামলার কারণে কয়েকটি অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাতেও চাপ তৈরি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া প্রতিবেশী বেলারুশকে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত করতে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, ইউক্রেন সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় নতুন সামরিক অবকাঠামো ও সংরক্ষণাগার নির্মাণের তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে পাওয়া গেছে, যা ভবিষ্যৎ সামরিক তৎপরতার প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে রাশিয়া এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, বেলারুশকে যুদ্ধের নতুন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহারের বিষয়ে প্রকাশিত খবর বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

অন্যদিকে বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোও তার দেশ ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পরিকল্পনা নেই বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, বেলারুশ সংঘাত নয়, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, পরিস্থিতি অযথা উত্তপ্ত করার কোনো চেষ্টা হলে তার প্রভাব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তায় পড়তে পারে।

যদিও বেলারুশ সরাসরি যুদ্ধে সেনা পাঠায়নি, তবুও দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া রুশ বাহিনীকে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি নিজেদের ভূখণ্ডে রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের অনুমতিও দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেনের ক্রমবর্ধমান ড্রোন হামলা এবং পাল্টা রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যুদ্ধের নতুন রূপ তুলে ধরছে। একই সঙ্গে বেলারুশকে ঘিরে বাড়তে থাকা কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন