Friday, June 26, 2026

অস্ত্র সক্ষমতা বাড়াচ্ছে উত্তর কোরিয়া, পাল্টা ড্রোন বাহিনী গড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া


ছবিঃ ২৫ জুন, ২০২৬ তারিখে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র পরীক্ষার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা /কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি/রয়টার্স)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। একাধিক উন্নত অস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালানোর পর উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন দেশটির সামরিক বাহিনীকে আরও আক্রমণাত্মক ও কার্যকর যুদ্ধ সক্ষমতা গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সময়ে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় বৃহৎ পরিসরে ড্রোনভিত্তিক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক অস্ত্র পরীক্ষায় কিম জং উন নিজে উপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষার পর তিনি সেনাবাহিনীকে এমন সক্ষমতা অর্জনের নির্দেশ দেন, যাতে প্রতিপক্ষ সব সময় চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকে এবং হামলার চিন্তাও না করতে পারে।

পরীক্ষায় উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের বিশেষ ওয়ারহেড, অধিক পাল্লার রকেট লঞ্চার এবং আধুনিক স্বচালিত হাউইটজার কামান ব্যবহার করা হয়। উত্তর কোরিয়ার দাবি, এসব অস্ত্র শত্রুপক্ষের বিমানঘাঁটি, সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম।

কিম জং উন বলেন, দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নিখুঁত হামলার সক্ষমতা অর্জনই বর্তমানে দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন প্রযুক্তির এই অস্ত্রগুলো উত্তর কোরিয়াকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় পুরো ভূখণ্ডে হামলা চালানোর সক্ষমতা দিতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি দেশটির নৌবাহিনীকেও আরও শক্তিশালী করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কিম জং উন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বড় যুদ্ধজাহাজ ও পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন নৌবাহিনী গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে উত্তর কোরিয়ার সামরিক তৎপরতার জবাবে দক্ষিণ কোরিয়াও নিজেদের প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সেনাবাহিনীতে বিপুলসংখ্যক ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ সদস্য তৈরি করা হবে, যারা ব্যক্তিগত অস্ত্র ব্যবহারের মতো সহজভাবে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন পরিচালনা করতে পারবেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক বলেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ড্রোননির্ভর যুদ্ধ সক্ষমতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। তার ভাষ্য, উত্তর কোরিয়ার সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়নে বিদেশি সহযোগিতার বিষয়টিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন। এর আওতায় দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পাল্টা সামরিক প্রস্তুতি কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। কূটনৈতিক সংলাপ স্থবির থাকায় উভয় দেশের প্রতিরক্ষা প্রতিযোগিতা আগামী দিনগুলোতে আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন