- ২৬ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। জুলাই থেকে মে পর্যন্ত সময়ে মোট বরাদ্দের মাত্র ৪৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা গত ১৬ বছরের একই সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন বাস্তবায়ন হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত সর্বশেষ অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য সময়ে উন্নয়ন প্রকল্পে মোট ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৭৬৯ কোটি টাকা। ব্যয়ের পরিমাণ এবং বাস্তবায়নের হার—উভয় দিক থেকেই এটি গত ছয় অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে কম।
চলতি অর্থবছরে সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা। তবে অর্থবছরের শেষ প্রান্তে এসেও উন্নয়ন ব্যয়ের অগ্রগতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাধারণত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মধ্যে থাকে। কিন্তু এবার তা ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
অগ্রগতি প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অন্তত ছয়টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ বরাদ্দের ২৫ শতাংশও ব্যয় করতে পারেনি। এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ এবং সংসদবিষয়ক সচিবালয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে একাধিক কারণ প্রভাব ফেলেছে। নতুন সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন, বিভিন্ন প্রকল্পের যাচাই-বাছাই, উন্নয়ন ব্যয়ে কৃচ্ছ্রসাধনের নীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক চাপের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি শ্লথ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অনেক প্রকল্প নতুন করে মূল্যায়নের আওতায় আনা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। এর প্রভাব সরাসরি এডিপি বাস্তবায়নের ওপর পড়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি দীর্ঘমেয়াদে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অর্থবছরের শেষ সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ানোর পাশাপাশি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।