Monday, May 11, 2026

গাজামুখী নৌবহর থেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীকে ইসরায়েল থেকে বহিষ্কার


ছবিঃ ব্রাজিলীয় আন্দোলনকর্মী থিয়াগো আভিলা (ডানদিকে) এবং স্প্যানিশ আন্দোলনকর্মী সাইফ আবু কেশেক ইসরায়েলের আশকেলনের আদালতে উপস্থিত হয়েছেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ইলিয়া ইয়েফিমোভিচ/এএফপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাত্রা করা একটি নৌবহর থেকে আটক দুই বিদেশি কর্মীকে ইসরায়েল দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বহিষ্কৃত দুই কর্মী হলেন স্পেনের নাগরিক এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সাইফ আবু কেসেক এবং ব্রাজিলের নাগরিক থিয়াগো আভিলা। তারা গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা নামের একটি নৌবহরের অংশ হিসেবে গাজার উদ্দেশে যাত্রা করেছিলেন।

জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছাকাছি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি নৌবাহিনী ওই নৌবহরটি আটক করে। পরে দুই কর্মীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইসরায়েলে নেওয়া হয়, অন্যদের গ্রিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, তদন্ত শেষে সাইফ আবু কেসেক ও থিয়াগো আভিলাকে রবিবার দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এক ভিডিও বার্তায় সাইফ আবু কেসেক জানান, তিনি গ্রিসের এথেন্সে পৌঁছেছেন এবং আইনজীবী দল ও সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাদের মানবিক মিশন ছিল গাজার সাধারণ মানুষের জন্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া।

অন্যদিকে ইসরায়েল দাবি করেছে, আবু কেসেকের বিরুদ্ধে “সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার” সন্দেহ ছিল এবং আভিলার বিরুদ্ধে “অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার” অভিযোগ ছিল। তবে দুই কর্মীই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তাদের আইনজীবী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় এই আটক ও পরবর্তী ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

ঘটনার পর স্পেন, ব্রাজিল এবং জাতিসংঘ দ্রুত তাদের মুক্তির আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে আটকাদেশের বিরুদ্ধে করা আপিলও ইসরায়েলি আদালত খারিজ করে দেয়, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলো “অবৈধ সিদ্ধান্ত” হিসেবে অভিহিত করেছে।

গ্লোবাল সামুদ ফ্লোটিলা মূলত ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকে যাত্রা শুরু করেছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল ইসরায়েলের অবরোধ ভেঙে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া। তবে নৌবহরটি মাঝপথেই ইসরায়েলি বাহিনীর বাধার মুখে পড়ে।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সাল থেকে গাজা উপত্যকার প্রবেশপথগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে আসছে ইসরায়েল। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতের কারণে গাজায় খাদ্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা জানিয়ে আসছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন