- ১০ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ “শেষের দিকে এগোচ্ছে” বলে তিনি মনে করছেন। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হলে তৃতীয় কোনো দেশে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসতে তিনি প্রস্তুত।
শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পুতিন এ মন্তব্য করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি মস্কোর সাম্প্রতিক ভিক্টরি ডে সামরিক কুচকাওয়াজে ইউক্রেনে রাশিয়ার বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন, পশ্চিমা “গ্লোবালিস্ট এলিটদের” কারণে এই যুদ্ধ শুরু হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ন্যাটো পূর্ব দিকে বিস্তৃত না হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি ছিল, তা ভঙ্গ করা হয়েছে এবং ইউক্রেনকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি বিষয়টি শেষের দিকে এগোচ্ছে।”
এদিকে ভিক্টরি ডে উপলক্ষে আয়োজিত কুচকাওয়াজে পুতিন রুশ সেনাদের প্রশংসা করে তাদের যুদ্ধকে “ন্যায়সঙ্গত লড়াই” হিসেবে উল্লেখ করেন। রেড স্কোয়ারে সামরিক কুচকাওয়াজে উপস্থিত সেনাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “বিজয় আমাদেরই হবে।”
এই বছরের কুচকাওয়াজ তুলনামূলকভাবে ছোট পরিসরে অনুষ্ঠিত হয়। আগের মতো ভারী সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শনের পরিবর্তে বড় পর্দায় ভিডিও দেখানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো উত্তর কোরিয়ার সেনারাও অংশ নেয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই রাশিয়া ও ইউক্রেন তিন দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং একই সঙ্গে ১,০০০ বন্দি বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক আশার সৃষ্টি করেছে।
তবে এর আগেও ঘোষিত একাধিক যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কার্যকর হয়নি বলে দুই পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, দুই দেশ তাঁর অনুরোধে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং বন্দি বিনিময়ে রাজি হয়েছে। তিনি বলেন, শান্তি আলোচনা ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে এবং যুদ্ধের অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
পুতিন জানান, তিনি জেলেনস্কির সঙ্গে তৃতীয় কোনো দেশে বৈঠকে বসতে পারেন, তবে তা কেবল একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তিচুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরই সম্ভব হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এতে বিপুল প্রাণহানি, ধ্বংস এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে দুই দেশই। বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের সাম্প্রতিক মন্তব্য যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের নতুন ইঙ্গিত দিলেও বাস্তবে শান্তি প্রক্রিয়া কতটা এগোবে তা এখনো অনিশ্চিত।