Monday, May 11, 2026

ফ্রান্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আফ্রিকা ফরওয়ার্ড সামিট আয়োজন করছে কেনিয়া


ছবিঃ রাষ্ট্রপতি উইলিয়াম রুটো ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে কেনিয়া পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের জন্য নিজেকে উন্মুক্ত করেছে এবং এই অঞ্চলে নিজেকে সবচেয়ে স্থিতিশীল ও সহজগম্য দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে (সংগৃহীত । আল জাজিরা । ড্যানিয়েল ইরুঙ্গু/ইপিএ)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ফ্রান্সের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আফ্রিকা ফরওয়ার্ড ২০২৬ শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করছে পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়া। ফরাসিভাষী দেশগুলোর বাইরে প্রথমবারের মতো এমন আয়োজনকে ঘিরে যেমন কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে, তেমনি দেশ-বিদেশে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

সম্মেলনটিতে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীরা অংশ নিচ্ছেন। আয়োজকেরা একে আফ্রিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখলেও, সমালোচকদের মতে এটি নয়া-ঔপনিবেশিক প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটোর নেতৃত্বে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। আফ্রিকার অন্যতম স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব দেশ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চাইছে কেনিয়া। অন্যদিকে পশ্চিম আফ্রিকায় প্রভাব হারানোর পর ফ্রান্স নতুনভাবে পূর্ব আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

এপ্রিলে ২০২৬ সালে ফ্রান্স ও কেনিয়ার মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে মোম্বাসা শহরে দুই দেশের সেনাদের যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ফরাসি সেনা ও কেনিয়ান ডিফেন্স ফোর্স (কেডিএফ) অংশ নেয়।

চুক্তি অনুযায়ী সামুদ্রিক নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, শান্তিরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে কয়েকশ ফরাসি সেনা কেনিয়ায় মোতায়েন করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে চুক্তির কিছু ধারা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। সমালোচকদের দাবি, ফরাসি সেনাদের বিশেষ আইনি সুবিধা এবং কিছু ক্ষেত্রে নিজ দেশে বিচারের সুযোগ দেওয়া হলে কেনিয়ার সার্বভৌমত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

কেনিয়ার সংসদীয় একাধিক সদস্য অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, গুরুতর অপরাধ হলে তা কেনিয়ার বিচার ব্যবস্থাতেই হবে।

ফ্রান্স বর্তমানে কেনিয়ার অন্যতম বড় বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ। গত এক দশকে ফরাসি বিনিয়োগের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ইউরো ছাড়িয়েছে। বর্তমানে প্রায় শতাধিক ফরাসি কোম্পানি কেনিয়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং হাজারো কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে।

কেনিয়ার জন্য এই অংশীদারিত্বকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিদ্যমান সহযোগিতার পাশাপাশি ফ্রান্সের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

তবে সমালোচকদের মতে, ফরাসি কোম্পানিগুলো সহজে বাজার সুবিধা পেলেও কেনিয়ান নাগরিকরা ফ্রান্সে একই সুযোগ পাচ্ছে না, যা সম্পর্ককে অসম করে তুলতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সম্মেলন ফ্রান্স ও কেনিয়ার সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে পারে। তবে একই সঙ্গে এটি আফ্রিকায় বিদেশি প্রভাব, সার্বভৌমত্ব এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভের মধ্যে কেনিয়া এখন একদিকে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব বাড়াতে চাইছে, অন্যদিকে জনগণের মধ্যে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

সব মিলিয়ে আফ্রিকা ফরওয়ার্ড ২০২৬ সামিট কেবল একটি অর্থনৈতিক সম্মেলন নয়, বরং আফ্রিকায় নতুন ভূরাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন