Monday, May 11, 2026

ফিলিপাইনে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে আবারও অভিশংসন


ছবিঃ ফিলিপাইনের উপরাষ্ট্রপতি সারা দুতের্তে সাংবাদিকদের বলেছেন যে রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়রের সাথে তার সম্পর্ক এতটাই 'বিষাক্ত' হয়ে উঠেছে যে তিনি মাঝে মাঝে তাকে শিরশ্ছেদ করার কল্পনা করেন (সংগৃহীত । আল জাজিরা । রোলেক্স দেলা পেনা/ইপিএ)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

ফিলিপাইনে রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তেকে দ্বিতীয়বারের মতো অভিশংসনের পক্ষে বিপুল ভোটে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা এখন সিনেটের চূড়ান্ত বিচারের ওপর নির্ভর করছে।

প্রতিনিধি পরিষদের ৩১৮ সদস্যের মধ্যে ২৫৫ জন সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পক্ষে ভোট দেন। এর মধ্যে ২৬ জন বিপক্ষে ভোট দেন এবং ৯ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। প্রয়োজনীয় এক-তৃতীয়াংশ ভোটের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে সিনেটে বিচারের জন্য পাঠানো হচ্ছে।

অভিশংসন প্রক্রিয়াটি ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র ও দুতার্তে পরিবারের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও তীব্র করেছে। দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নয়, বরং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপরও চাপ সৃষ্টি করছে।

অভিশংসন কমিটির চেয়ারম্যান গারভিল লুইস্ত্রো বলেন, বিষয়টি শুধু আইনগত নয়, বরং নৈতিকতা ও সংবিধানগত দায়বদ্ধতার প্রশ্নও জড়িত। তাঁর মতে, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হলো জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।

অভিযোগপত্রে সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে সরকারি গোপন তহবিলের অপব্যবহার, সম্পদের তথ্য গোপন, ঘুষ গ্রহণ এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি প্রদানের মতো একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১১ কোটি ডলারের বেশি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

অন্য এক আইনপ্রণেতা টেরি রিডন বলেন, এটি কেবল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং সংবিধান রক্ষার একটি প্রক্রিয়া।

এদিকে সিনেটে এখন চূড়ান্ত বিচার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দোষী সাব্যস্ত করতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সিনেট নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে ফলাফল অনিশ্চিত বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ক্লিভ ভি. আর্গুয়েলেস বলেন, হাউসের বিপুল ভোট সিনেট সদস্যদের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ এটি জনমত ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে প্রভাবিত করবে।

উল্লেখ্য, সারা দুতার্তে ও প্রেসিডেন্ট মার্কোস ২০২২ সালের নির্বাচনে একসঙ্গে অংশ নিলেও পরবর্তীতে তাদের জোট ভেঙে যায় এবং সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয়। এরপর থেকেই দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

সারা দুতার্তে এর আগে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিশংসন প্রক্রিয়ার ফলাফল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন