- ১১ মে, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
যুক্তরাজ্যে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তীব্র রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন। দলের ভেতর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে, যা তার নেতৃত্বকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সোমবার দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে স্টারমার নির্বাচনী ফলাফলের দায় স্বীকার করে বলেন, এটি ছিল “খুব কঠিন” একটি ফলাফল। তিনি জানান, সরকার এখন বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে “আরও শক্তিশালী ও ন্যায্য ব্রিটেন” গঠনের লক্ষ্যে কাজ করবে।
তিনি স্বীকার করেন, লেবার পার্টি কিছু ক্ষেত্রে ভুল করেছে, তবে তাদের মৌলিক নীতিগত সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে দাবি করেন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য হ্রাস এবং অভিবাসন নীতিতে অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “রাষ্ট্রের ভিত্তি এখনো মজবুত রয়েছে।”
স্টারমার আরও বলেন, দেশ এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং রাজনৈতিকভাবে “ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিপক্ষদের” মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তার মতে, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো জনগণের হতাশাকে কাজে লাগিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।
তিনি লেবার পার্টিকে “প্রতিবাদ নয়, ক্ষমতার মূলধারার দল” হিসেবে উল্লেখ করে জানান, সরকার ব্রিটিশ স্টিল খাত পুনর্গঠনের জন্য নতুন আইন আনবে এবং তরুণদের জন্য চাকরি, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নির্বাচনী পরাজয়ের পর দলীয় ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। প্রায় ১,৫০০ কাউন্সিলর হারানোর ঘটনায় লেবার এমপি ক্যাথরিন ওয়েস্টসহ একাধিক সংসদ সদস্য স্টারমারের পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনের বেশি এমপি সরাসরি নেতৃত্ব পরিবর্তনের কথা বলেছেন অথবা নির্দিষ্ট সময়সীমা চেয়েছেন।
অন্যদিকে কিছু মন্ত্রী ও এমপি এখনও স্টারমারের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজিট ফিলিপসন বলেছেন, নেতৃত্ব পরিবর্তন এখনকার সমস্যার সমাধান নয়, বরং তা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি লেবার পার্টির জন্য বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি করতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম রয়েছেন।
লেবার সরকার ২০২৪ সালে দীর্ঘ ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসে। তবে এরপর থেকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ভাতা কাটছাঁট এবং কিছু নীতিগত বিতর্কের কারণে সরকারের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টারমারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন তার পরবর্তী পদক্ষেপ ও দলের অভ্যন্তরীণ সমর্থনের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।